পিছিয়ে পড়া বেদে সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের প্রথম মাসের বেতন থেকে ৩৪ জন বেদে শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘লেটস মিট জিপসি জিনিয়াস’ শিরোনামে একটি পোস্টে তিনি এ উদ্যোগের কথা জানান। সেখানে ৩৪ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজিত একটি সচেতনতামূলক সেশনের ভিডিওও শেয়ার করেন তিনি।
ভিডিওতে অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নারীদের অবশ্যই শিক্ষিত করতে হবে এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ঘরে ঘরে নারীদের শিক্ষিত করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মেয়েদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান এই সংসদ সদস্য।
বেদে সমাজে মাধ্যমিকের পর মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রোধে বিশেষ বৃত্তির ঘোষণা দেন তিনি। তিনি জানান, এই সম্প্রদায়ের কোনো শিক্ষার্থী যদি ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়াশোনা করে, তবে তাকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে। এই সহায়তা যতদিন পড়াশোনা চলবে ততদিন অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এসএসসি পাসের পর মেয়েদের বিয়ে নিয়ে যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়, এই বৃত্তির মাধ্যমে তা দূর করা সম্ভব হবে, কারণ তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব এখন গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে একটি শর্তও রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ভালো ফলাফল করতে হবে। পরীক্ষায় ফেল করলে বা পড়াশোনায় অবহেলা করলে এই বৃত্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৩৪ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে তাদের মেধা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
বেদে জনগোষ্ঠীর শিক্ষার হার ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, শিক্ষিত নারী শুধু চাকরি করুক বা না করুক, সচেতন হওয়ার জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ঝরে পড়া রোধ এবং উচ্চশিক্ষায় বেদে নারীদের উৎসাহিত করতেই এই ‘জিপসি জিনিয়াস’ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।