ব্যাট হাতে দারুণ সময় পার করছেন মুমিনুল হক। টানা চার ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করে আবারও নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশের এই টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটার। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে বড় আক্ষেপ হয়ে থাকল তার সেঞ্চুরি না পাওয়া।
ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে ৯১ রান করে আউট হন মুমিনুল। শতকের খুব কাছে গিয়েও থেমে যেতে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আক্ষেপ থাকার কথা। তবে দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের স্বভাবসুলভ হাস্যরসেই বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুমিনুল বলেন, “না, আক্ষেপ হয়নি। এত দিন হয়নি। আজ একটু হয়েছে। তাও বউয়ের কারণে। বউ হয়তো একটু গালি দিবে। এটাই আরকি।”
তবে আউট হওয়ার পর কিছুটা খারাপ লেগেছিল বলেও স্বীকার করেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, “আসার পর দুই-তিন মিনিট একটু খারাপ লাগছিল আরকি। একশর চেয়ে আমার কাছে নিয়মিত রান করা বেশি ইম্পরট্যান্ট।”
বারবার ভালো শুরু করেও কেন সেঞ্চুরি পাচ্ছেন না— সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন মুমিনুল নিজেও। তার ভাষায়, “মানসিক হতে পারে। এখনও ধরতে পারিনি। ইনশাআল্লাহ ধরে ফেলব। আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি, একশ করব এই চিন্তাই করি না। হয়তো আরেকটু চিন্তা করতে হবে।”
তিনি জানান, নিজের লক্ষ্য থাকে দীর্ঘ সময় ব্যাট করা। “আমি ভাবি চার-পাঁচ সেশন ব্যাট করতে হবে। ওটাই এভাবে ভাবতে হবে— ৪-৫ সেশন ব্যাট করলে একশ-দেড়শ হয়ে যাবে।”
সেঞ্চুরি না করলে আফসোস নেই— এমন ধারণাও মানতে নারাজ মুমিনুল। স্পষ্ট করেই বলেন, “সেঞ্চুরি চাই। সেঞ্চুরি কে না চায়?”
২০১৮ সালের পর থেকে শুধুই টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত দেখা যায় তাকে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে না থাকলেও নিজের কাজটা করে যেতে চান নিঃশব্দে। মুমিনুলের মতে, নিয়মিত রান করাই তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
দ্বিতীয় দিনের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তিনি বলেন, “কাল সকালটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বলে চ্যালেঞ্জ বেশি থাকে। যদি প্রথম এক ঘণ্টা উইকেট না হারিয়ে খেলতে পারি, তাহলে ৪০০-৪৫০ রান সম্ভব।”