মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে- মঙ্গলবার (১৯ মে) এশিয়ার শুরুর দিকের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের জুলাই ডেলিভারির দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৬ ডলার বা ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০৯ দশমিক ৮৪ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের জুন চুক্তির দাম ১ দশমিক ২২ ডলার কমে হয় ১০৭ দশমিক ৪৪ ডলার।
এর আগের সেশনে দুই ধরনের তেলের দামই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
ট্রাম্প সোমবার বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে, যাতে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আলোচনার সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ বক্তব্য তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমালেও বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর এখন তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তরের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে, তবে অগ্রগতি ধীর।
অন্যদিকে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হলেও মার্কিন কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করেছেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সমুদ্রপথে তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরও ৩০ দিনের জন্য শিথিল করেছে, যাতে জ্বালানিনির্ভর দেশগুলো সরবরাহ সংকটে না পড়ে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির কৌশলগত তেল মজুত থেকে রেকর্ড ৯৯ লাখ ব্যারেল তেল সরানো হয়েছে। ফলে মজুত নেমে এসেছে প্রায় ৩৭ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলে, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।