গত ১৭ বছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা অনুসন্ধানে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠনের তথ্য জানিয়েছে।
নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালককে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা-১ অধিশাখা) মো. সামছুল ইসলাম।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (জেলা পরিষদ শাখা) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, উপসচিব (সিটি করপোরেশন-১) মো. রবিউল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী সচিব (পাস-৩) মোছা. আকতারুন নেছা, সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রশাসন-১) তাহমিনা আক্তার এবং সিনিয়র সহকারী সচিব (উন্নয়ন-২) এ বি এম আরিফুল ইসলাম।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ সময় কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, শুধু পিরোজপুর জেলায় এলজিআরডির ২ হাজার ৪৬০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হলেও এর মধ্যে ১ হাজার ৬১০টি প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই টেন্ডারের আনুষ্ঠানিকতা দেখিয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দাবি, এসব ঘটনায় তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য, নির্বাহী প্রকৌশলী, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাসহ অনেকেই জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রাথমিক তদন্তের পর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, তদন্তের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে পিরোজপুরে উন্নয়নকাজ বন্ধ রয়েছে। তবে দুদকের তদন্তের বাইরে থাকা প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ঈদের পর পিরোজপুর সরেজমিন পরিদর্শনের পর কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই কিছু ফাইল অনুমোদন করেছিলেন, যা ‘রুলস অব বিজনেস’-এর পরিপন্থি। তবে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।