জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নে বিএনপি নেতাদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক নিজকর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১ জুন) গভীর রাতে উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারা পশ্চিমপাড়া গ্রামে চারটি স্থাপনায় হামলা ও ভাংচুর করে নিজদলের প্রতিপক্ষের সমর্থকরা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীরা জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভাটারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক শেখ হোসেন জামান জুয়েল এবং বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ খান। নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে আলোচনা পর্যালোচনা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার রাতে শেখ হোসেন জামান জুয়েলের সমর্থকরা উঠান বৈঠক শেষে রাতের খাবারে অংশ নেন। বিষয়টি জেনে প্রতিপক্ষ হারুন অর রশীদ খানের সমর্থকরা ক্ষুদ্ধ হন। এর জের ধরে তার সমর্থকরা রোববার গভীর রাতে ভাটারা পশ্চিমপাড়া গ্রামে কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা শেখ হোসেন জামান জুয়েলের ভগ্নিপতি খলিলুর রহমানের বাড়ির টিনের বাউন্ডারি কুপিয়ে-পিটিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এছাড়াও জুয়েলের পোল্ট্রি ফার্মের প্রবেশ পথের গেট, লুৎফর রহমান লালুর বসত বাড়ির ঘরের বেড়া, মজিবর রহমানের বসত ঘরের থাই জানালা ভাংচুর এবং স্টিলের দরজা পিটিয়েছে বলে ভুক্তভোগী লুৎফর রহমানসহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেন। এ হামলার ঘটনায় তারা প্রতিপক্ষের ভয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও ভয় পাচ্ছেন বলে জানান।
ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান লালু বলেন, শেখ হোসেন জামান জুয়েল একজন ভালো মানুষ। আমরা তার সমর্থক হওয়ায় এবং তাঁর দেওয়া বিরিয়ানি খাওয়ার কারণে হারুন অর রশীদ খানের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ হোসেন জামান জুয়েল বলেন, আমার ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ খান আধিপত্য বিস্তার করতে তার লোকজন আমার সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ