ঈদের ছুটি শেষে সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চল থেকে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের কড্ডা মোড়ে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে। বাস, পিকআপ ও ট্রাকে করে যে যেভাবে পারছেন ঢাকার পথে ছুটছেন। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে দ্বিগুণের বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
যাত্রী মামুনুর রশিদ, আব্দুল মতিন এবং গার্মেন্টসকর্মী রেশমি ও মুনিয়া খাতুন অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় যানবাহনের স্টাফরা দ্বিগুণ বা তার বেশি ভাড়া নিচ্ছে। বাসের সিট প্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাক ও পিকআপে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা আরও বলেন, ঢাকা থেকে বাড়ি যাওয়ার সময়েও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েছেন, আবার ফেরার পথেও একই অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি দাবি করেন তাঁরা।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামকে এই বাড়তি ভাড়া বিষয়ে অবগত করা হলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকার কথা। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, সেতুর ওপরে কয়েকটি দুর্ঘটনার কারণে ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারে সমস্যা ছিল। এ কারণে সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে যানবাহনে ধীরগতি দেখা যায়। সকাল ১০টার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
যমুনা সেতু সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, গতরাতে সেতুর ওপরে কয়েকটি লোকাল বাস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যানবাহন পারাপারে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। এর ফলে সেতুর উভয় পাশে যানবাহনের লম্বা লাইন তৈরি হয়। নষ্ট যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সকাল ১০টার পর থেকে স্বাভাবিক গতিতে সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে এবং সেতুর উভয় পাশে বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৪৬ হাজার ২৭৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এর মধ্যে সেতুর পূর্বপার টোলপ্লাজা দিয়ে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলমুখী ১৬ হাজার ২২২টি এবং উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী টোলপ্লাজা দিয়ে ৩০ হাজার ৫৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।
