ইরানের সঙ্গে এক মাস ধরে চলমান যুদ্ধের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত রয়েছে: কোনো চুক্তি করে দ্রুত বের হওয়া, নাকি সামরিকভাবে যুদ্ধ বাড়িয়ে তার প্রেসিডেন্সির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নেওয়া।
বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং কমার মধ্যে, যুদ্ধের প্রভাব মারাত্মক। ইরান সমুদ্রপথে তেল ও গ্যাস সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং পুরো অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের বড় চ্যালেঞ্জ হলো যে, যুদ্ধের জন্য তার কোন সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক লক্ষ্য রয়েছে কি না।
ট্রাম্প প্রায়শই বলেন তিনি “চিরস্থায়ী যুদ্ধ” চাইছেন না এবং একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছেন। তিনি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে ১৫-পয়েন্টের শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তবে, কূটনৈতিক চেষ্টার সাফল্যের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক চাপ এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি সবকিছুই চাপ বাড়াচ্ছে।
একই সময়ে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আরও হাজার হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছেন এবং ইরানকে সতর্ক করছেন, প্রয়োজনে গ্রাউন্ড ফোর্স ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য বড় অপারেশন, যেমন “অপারেশন এপিক ফিউরি”, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিত হতে পারে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে না পারায় ট্রাম্পের বিজয় দাবিও অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধের জনপ্রিয়তা কমে গেছে। সাম্প্রতিক রায়ভোট ও সমীক্ষা অনুযায়ী ট্রাম্পের অনুমোদন মাত্র ৩৬%, যা তার দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সি কালে সর্বনিম্ন। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।
কূটনৈতিক পথে সমস্যা আরও জটিল হয়েছে কারণ, যুদ্ধের সময় নিহতদের পরিবর্তে আরও কঠোরপন্থী নেতারা দায়িত্বে এসেছেন। ইরান ট্রাম্পের প্রতি গভীর সন্দেহ দেখাচ্ছে, এবং তারা বিশ্বাস করছে যে, কেবল টিকে থাকা দিয়েই তারা জয় দাবি করতে পারবে। একই সময়ে ইসরেলি ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রের মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বা অসম্পূর্ণ উত্তেজনা সমাধানে অসন্তুষ্ট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ট্রাম্প গ্রাউন্ড ফোর্স ব্যবহার করেন, তবে খার্গ দ্বীপ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করার, কোস্টাল অপারেশন চালানোর বা পারমাণবিক ইউরেনিয়ামের মজুদ উদ্ধার করার চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে এবং আমেরিকান জনমত ও সেনাদের মধ্যে ক্ষতি বাড়াবে।
সূত্র: রয়টার্স।
