নোয়াখালী জেলা সদর উপজেলা ২০ নং আন্ডারচর ইউনিয়ন পূর্ব মাইজচরা এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্যে নিরব (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে গতকাল দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, ঘটনার দিন সকালে নিহত ব্যক্তিকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপের কয়েকজন সদস্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যেই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিল এবং সুযোগ বুঝে হামলা চালায়। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
জানা যায়, এরআগে শনিবারে একই এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল তারা নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিল।তবে সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষের পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তি এরআগে ৩ জনকে ছুরি দ্বারা আহত করে।স্থানীয়রা ঘিরে রেখেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আমিসহ অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে যায়।পরে মুমুর্ষ অবস্থায় নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুশল/সাএ
