Dhakainfo24
ঢাকারবিবার , ২৯ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. বিনোদন
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
  13. স্বাস্থ্য

সংবিধান সংস্কার পরিষদের আলোচনা নিয়ে সংসদে বিতর্ক

ঢাকা ইনফো২৪
মার্চ ২৯, ২০২৬ ১০:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ (আদেশ নম্বর–১)-এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি আজকের সংসদ অধিবেশনেই এ বিষয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি যথাযথভাবে নোটিশ উত্থাপন করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বানের বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দিয়েছেন এবং তা আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তার বক্তব্যের পর সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি নিয়ে আপত্তি তোলেন। তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৭১ বিধির আলোচনা শেষ হওয়ার পরই এ ধরনের বিষয় উত্থাপন করা হয়। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ম অনুযায়ী অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।

জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ মার্চ স্পিকার নির্দেশ দিয়েছিলেন যে এ ধরনের বিষয় প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে উত্থাপন করা যাবে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ীই তিনি দাঁড়িয়েছেন এবং এটিকে তিনি তার অধিকার ও দায়িত্ব বলে মনে করেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেওয়ার জন্য সময় চান, তবে বিরোধীদলীয় সদস্যরা আপত্তি জানান। পরে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে স্পিকারের এখতিয়ার; অনুমতি না পেলে তিনি বসে পড়বেন।

ডেপুটি স্পিকার তাকে বক্তব্য চালিয়ে যেতে বললে তিনি বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার অনুমতি দেওয়া না হলে তিনি বসে পড়তে প্রস্তুত, তবে তাকে দাঁড়িয়ে রাখার ক্ষমতা স্পিকারের রয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার স্পষ্ট করেন যে সংসদে সময় দেওয়ার ক্ষমতা চিফ হুইপের নয়, এটি কেবল স্পিকারের এখতিয়ার।

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি সবাইকে সম্মান জানাতে চান। বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যা পূর্বে স্পিকার তাকে বিধি অনুযায়ী উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির আলোচনা শেষে এ ধরনের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এতে কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হয়নি বলেও তিনি মত দেন।

তিনি আরও বলেন, ৭১ বিধিতে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা সম্পূর্ণ স্পিকারের সিদ্ধান্ত। তবে এটি সংসদ সদস্যদের অধিকার এবং পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা নোটিশটি উত্থাপন করলে সরকার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

পরে মাইক নেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদ কীভাবে গঠিত হচ্ছে তা আমরা ভুলে যাচ্ছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হয়েছিল। এখন সংসদের কার্যক্রম দেখলে মনে হচ্ছে, এ ধরনের কিছুই হয়নি। এটি সবচেয়ে বেশি জনগুরুত্বপূর্ণ, এ সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত, এর সুরাহা হওয়া উচিত। তারপরও নিয়মিত সব কার্যক্রম হওয়া উচিত। বিধি মোতাবেক বিরোধীদলীয় নেতা নোটিশ দিয়েছেন। গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার অনুরোধ করেন তিনি।

পরে চিফ হুইপ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয় নিশ্চয়ই আলোচনায় আসবে, আজকেই আলোচনা হতে পারে অথবা স্পিকার যেদিন নির্ধারিত করবেন, সেদিন আলোচনা হতে পারে। তিনি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এসেছেন। আমাদের দিক থেকে অসুবিধা নেই। ৭১ বিধি শেষে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন।

ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনার উত্থাপিত বিধিটি আমরা পর্যালোচনা করছি। ৭১ বিধির আলোচনা শেষ হওয়ার পর নোটিশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।” এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।”

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পুনরায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমি সচেতনভাবেই এই সময় বিষয়টি উত্থাপন করেছি। আমার জানা মতে এটাই সঠিক সময়। ৭১ বিধির আগেই এটি তোলার সুযোগ রয়েছে। ৬৪ বিধি অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে, সেখানে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।”

জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “৬৪ বিধিতে বিষয়টি উল্লেখ আছে ঠিকই, তবে সংসদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ৭১ বিধির পরেই এ ধরনের নোটিশ বিবেচনা করা হয়। তাই আমরা নোটিশটি গ্রহণ করেছি এবং ৭১ বিধির আলোচনা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।”

পরে সরকারি দলের চিফ হুইপ বলেন, “স্পিকার চাইলে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির আলোচনা স্থগিত রেখে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন।”

শেষ পর্যন্ত স্পিকার সংসদীয় বিধি মেনে নির্ধারিত সময় বা পরবর্তী কার্যদিবসে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দিলে সংসদের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি শান্ত হয়।



কুশল/সাএ

ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।