অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়মতো টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, গত ৪ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানার পরও ভ্যাকসিন সংগ্রহে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এর ফলে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি, যা বর্তমানে সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
ডা. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় দেশে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হলেও পরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এক বছরের আন্দোলনের কারণেও কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, ফলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটানোর অনুরোধ করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাম নিয়ে নতুন করে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হলেও চার মাস বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সংক্রমণের কারণ খুঁজে বের করতে গবেষণা জরুরি, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব হয়।
সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা একজন থেকে ১০ থেকে ১৫ জনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।’
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১ হাজার ২০০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে সেখানে প্রায় ২ হাজার ৯০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি জানান, শিশুদের জন্য নির্ধারিত আইসিইউতেও সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে এবং সেখানে বর্তমানে ১২ জন শিশুর চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আইসিইউর ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হাসপাতালে শিশুদের সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে হাসপাতালে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। তাদের প্রতিবেদন প্রকাশের পর হামের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রামেকের পরিচালকের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘ফাঁসি’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে আবেগপ্রসূত বলে উল্লেখ করেন ডা. রফিকুল ইসলাম।
এর আগে তিনি হাসপাতালের হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ড ও আইসিইউ পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
কুশল/সাএ
