ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ। নতুন ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে পুরাতন ভবন ভেঙে ফেলা হলে দীর্ঘদিনেও নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
বর্তমানে হাসপাতালের অপর একটি পুরাতন ভবনের কয়েকটি কক্ষ ও বারান্দায় ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই জায়গায় নারী ও পুরুষ রোগীদের থাকতে হচ্ছে, যা রোগীদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এছাড়া এই ভবনে নেই টয়লেট ও ওয়াশরুমের কোনো ব্যবস্থা। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের ভবনের বাইরে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোগীদের সাথে এ কেমন নির্মমতা! হাসপাতালে ভর্তি হয়েও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না রোগীরা।”
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন ধরনের মুমূর্ষু রোগী জরুরি চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা পাচ্ছেন দায়সারা চিকিৎসা সেবা। হাসপাতাল প্রশাসনের দাবি, ভবন সংকট ও চিকিৎসক সংকটের কারণেই তারা সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে পারছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবন সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটও রয়েছে এই হাসপাতালে অপরদিকে প্যাথলজি বিভাগ ও প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ১১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এবিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এইচ এম নূরুল ইসলাম খান বলেন, “ভবন সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকরা পুরাতন একটি ভবনের বারান্দায় বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। ভর্তি রোগীদের বারান্দা ও মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। সামনে ঝড়বৃষ্টির মৌসুম আসছে, তখন হয়তো বারান্দায় রোগীদের রাখা সম্ভব হবে না। তাই দ্রুত নির্মাণাধীন ভবনের কাজ সম্পন্ন করা জরুরি।”
চিকিৎসা সেবার স্বার্থে হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের স্বজনরা।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. শরাফত মিয়া বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি পুনরায় টেন্ডারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তিনি জানান, সারা দেশে এ ধরনের প্রায় ১৪০টি ভবনের নির্মাণকাজ স্থগিত রয়েছে এবং সবগুলো প্রকল্প একসাথেই পুনরায় চালু হবে।
তিনি আরও বলেন, রোগীদের ভোগান্তি হলেও এ পরিস্থিতিতে তার পক্ষে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, নির্মাণাধীন ভবনের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো, নতুন করে টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
