মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ভূমিহীন নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক সেনাসদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী রোকসানা বেগম (৫৫) ঘিওর বাজারের পশ্চিম পাশে নদীর তীরে সরকারি খাস জমিতে টিনের ঘর তুলে বসবাস করেন। তার অভিযোগ, গত ২৪ মার্চ দুপুরে সেনাবাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী হিমেল সুলতান (২৫) তার সহযোগীদের নিয়ে প্রকাশ্যে তার বাড়িতে হামলা চালান।
রোকসানা বেগম জানান, তার দুই ছেলে নেশাগ্রস্ত এবং চুরির সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রায় তিন বছর আগে আদালতের মাধ্যমে তাদের ত্যাজ্য সন্তান ঘোষণা করেন তিনি। সম্প্রতি এলাকায় একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ছেলেদের সন্দেহ করা হয়। এর জের ধরেই তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘরের টিন কেটে ফেলে এবং ঘরে ঢুকে খাট, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় স্টিলের ড্রয়ার ভেঙে প্রায় ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় তারা।
এছাড়া, ঘটনার দিন রোকসানা বেগমের মেয়ের সঙ্গে হামলাকারীদের কয়েকজন অশালীন আচরণ ও বাক্য বিনিময় করে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলেও কোনো সমাধান না পেয়ে এক সপ্তাহ পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে সেনাসদস্য হিমেল সুলতানকে প্রধান অভিযুক্ত করে আরও সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৪০-৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. রাজ্জাক বলেন, ‘প্রধান অভিযুক্ত একজন সরকারি চাকরিজীবী। তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
