ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। শনিবার (৪ এপ্রিল) ওই হামলায় এক রুশ কর্মীর মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করেছে মস্কো।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বুশেহর কেন্দ্র ঘিরে পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাতে রাশিয়া সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।’
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসির উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়। তিনি জানান, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কখনোই সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়।
জাখারোভা বলেন, ‘হামলাকারীরা কোনো দ্বিধা ছাড়াই এমনকি এক ধরনের বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) এবং আইএইএর নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় রয়েছে।’
রাশিয়া আরও বলেছে, এই “অবৈধ ও বেপরোয়া” পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হামলাকারীদের ভাবমূর্তি এক অমোচনীয় কলঙ্ক হিসেবে থাকবে। জাখারোভা বলেন, ‘এসব হামলার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কার্যত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাদের পূর্বের অবস্থান সম্পূর্ণভাবে ক্ষুণ্ন করেছে এবং তারা আর কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম বা সীমাবদ্ধতা মানছে না, এটিই প্রমাণ করেছে।’
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করে বলেছে, ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এনপিটি পর্যালোচনা সম্মেলনে এই হামলার প্রভাব নিয়ে নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এখনো এড়ানো সম্ভব, তবে এর জন্য ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’
শনিবারের হামলায় বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও মাহশাহর ও বন্দর ইমাম বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল জোনসহ কয়েকটি স্থাপনায় আঘাত হানে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: আনাদোলু।
সালাউদ্দিন/সাএ
