শেরপুরের শ্রীবরদীতে গত বুধবার (১ এপ্রিল) রাস্তার পাশে পরিত্যাক্ত ট্রাংক থেকে অজ্ঞাতনামা মরদেহ হিসেবে উদ্ধার হওয়া গার্মেন্টসকর্মী ডলি আক্তারের নৃশংস হত্যাকান্ডের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ভিকটিমের পরিচয় এবং হত্যাকারী স্বামী-স্ত্রী শ্রীবরদীর বটতলা এলাকার গার্মেন্টসকর্মী মো. নিয়ামুর নাহিদ (২৬) এবং তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে (২৬) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পিআইবি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোরে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শেরপুর সদরের ভাতশালা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পিবিআই চেকপোষ্ট বসিয়ে একটি বাস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাবে পিবিআই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই, জামালপুর ইউনিট ইনচার্জের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম।
তিনি আরও জানান, আসামী মো. নিয়ামুর নাহিদ এবং রিক্তা মনিকে শনিবার দুপুরে শেরপুরে বিচারিক হাকিমের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ডলি হত্যাকান্ডের বিষয়ে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। পরে আদালতের নির্দেশে আসামীদের শেরপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে, ডলি আক্তার হত্যা মামলার এজাহার পর্যালোচনা, তদন্ত ও আসামীদের প্রদত্ত জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায়, প্রায় ১৫/১৬ বছর পূর্বে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর এলাকার কাজিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির সাথে ডলি আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের আকলিমা (১৩) নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সেই সন্তান হওয়ার প্রায় ২ বছর পর কাজিম উদ্দিন মারা যায়। পরবর্তীতে প্রায় ৩ বছর পূর্বে ডলি আক্তারের সাথে মো. বিল্লাল হোসেন (৪০) নামে আরেকজনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ডলি আক্তার ময়মনসিংহের ভালুকা থানাধীন স্কয়ার মাস্টারবাড়ী আইডিয়াল মোড় পয়েন্ট এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একটি সুয়েটার কোম্পানীতে কাজ করতেন। সেখানে ডলির আরও দুই ভাইও কাজ করতো। তারা পাশাপাশি এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করতেন।
গত ৩০ এপ্রিল ডলি আক্তারের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় বাদী তার ভাইদের সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করতে থাকেন। পরবর্তীতে গত বুধবার (১ এপ্রিল) বিকালে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানা হতে বাদীর মোবাইলে কল করলে তিনি জানতে পারেন তার বোন ডলি আক্তারকে কে বা কারা খুন করে তার মরদেহ একটি প্লেনশীটের তৈরী বড় ট্রাংকের ভেতরে ভরে তালাবন্ধ করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে গেছে।
তদন্তকালে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামী মো. নিয়ামুর নাহিদ ও রিক্তা মনি গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় থেকে একটি টেক্সটাইল মিলে চাকুরী করেন। গত ৩০ মার্চ রাত অনুমান ৮ টার দিকে গ্রেপ্তারকৃত আসামী মো. নিয়ামুর নাহিদ ভিকটিম মোছা. ডলি আক্তারের সাথে তাৎক্ষণিক পরিচয়ের সূত্র ধরে তার স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে ডলি আক্তারকে আসামীর ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় যাওয়ার পর সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে ডলি আক্তার বেশি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে লোক জানাজানির ভয়ে আসামী নাহিদ ডলির গলায় গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে ধরলে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু ঘটে।
আসামী নাহিদ তার স্ত্রী রিক্তা মনি রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজ থেকে বাসায় ফিরে আসলে হত্যাকান্ডের বিষয়টি তাকে জানায়। পরবর্তীতে তারা উভয়ে মিলে হত্যাকান্ডের বিষয়টি গোপন করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আসামী নাহিদ একটি বড় প্লেনশীটের ট্রাংক কিনে নিয়ে এসে নিহত ডলি আক্তারের হাত-পা বেঁধে তোশক দিয়ে পেঁচিয়ে সেই ট্রাংকে রেখে দেয়। গত বুধবার (১ এপ্রিল) আসামী নাহিদ এ মামলার ঘটনায় জব্দকৃত পিকআপ ভাড়া নিয়ে মামলার ঘটনাস্থলে ট্রাংকটি রেখে পুনরায় গাজীপুর চলে যায়।
সালাউদ্দিন/সাএ
