একই লিঙ্গের দুজন মানুষের শৈশবের প্রেম দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন পরিণতি পাওয়ার পথে, তখন শর্ত ছিল ফিরোজকে নারী হতে হবে। ফিরোজ সেই শর্ত মেনে ২০২৪ সালে পুরুষ থেকে নারী পরিচয়ে রূপান্তরিত হন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর বিদেশ থেকে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার প্রেমিক বিপ্লব বরিশাল নগরীর ধান গবেষণা রোড এলাকায় অন্য এক নারীর সঙ্গে সংসার পেতেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, পেশায় নৃত্যশিল্পী ফিরোজ তার জমানো সম্পদ বিক্রি করে ৫০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন বিপ্লবের হাতে। ফিরোজ জানান, বিপ্লব ও তার মধ্যে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিপ্লবের কথায় তিনি নিজের পুরুষত্ব ত্যাগ করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নারী হয়েছেন। বিয়ে করে বিদেশে একসঙ্গে থাকার কথা ছিল তাদের। কিন্তু তিনি অস্ত্রোপচার করে দেশে ফিরে জানতে পারেন বিপ্লব বরিশালে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার সাজিয়েছেন।
ফিরোজ আরও জানান, সম্পর্কের দোহাই দিয়ে বিপ্লব প্রায়শই আর্থিক সুবিধা নিতেন। তিনবারে বাড়ির কাজের কথা বলে মোট ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বরিশালে এসে নিজের স্বীকৃতি চাইলে উল্টো বিপ্লবের কাছ থেকে হুমকি পান। তাই বাধ্য হয়ে নিজের সম্পদ বিক্রির টাকা ফেরত ও নিরাপত্তা চেয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
এদিকে বিপ্লব এই সম্পর্ক ও অর্থের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ফিরোজ তাকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বাদী না আসায় এবং তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিজ এলাকার আদালতের মাধ্যমে সমাধান করার কথা জানানো হয়। স্কুল জীবনে শুরু হওয়া তাদের এই প্রেমের সম্পর্ক ১৭ বছর ধরে ছিল বলে ফিরোজ দাবি করেছেন।
কুশল/সাএ
