বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে, যা প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করে তুলছে।
আইএমএফ তাদের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার ৩.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩.১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে, যা আগামী বছরে কিছুটা কমে ৩.৭ শতাংশে নামতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা—বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস গড়ে ০.৩ শতাংশ কমানো হয়েছে। অন্যদিকে উন্নত অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সংঘাত বাড়লে তারাও বড় ধাক্কা খেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানের অর্থনীতি চলতি বছরে ৬.১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। পাশাপাশি কাতার, ইরাকসহ তেলনির্ভর অর্থনীতিগুলোকেও ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কিছুটা কমানো হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের মতো দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
চীন ও ভারতের অর্থনীতিতেও আংশিক পরিবর্তন দেখা গেছে। চীনের প্রবৃদ্ধি সামান্য কমলেও ভারতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আইএমএফ আরও সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ ছাড়াও বৈশ্বিক বাণিজ্যে সুরক্ষাবাদ, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ বুদ্বুদ ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সংস্থাটির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
