জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তেলের প্রকৃত চোর কারা—তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এতে ভোগান্তিতে পড়েছে। সামান্য জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অথচ সংসদে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে মনে হয় দেশে কোনো সংকটই নেই, বরং তেল পর্যাপ্ত রয়েছে এবং আগামী দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না।
শফিকুর রহমান প্রশ্ন রাখেন, যদি সংকট না-ই থাকে, তাহলে কেন কিলোমিটারের পর কিলোমিটার মোটরসাইকেলের লাইন দেখা যাচ্ছে? মানুষ কি শখ করে সেখানে দাঁড়ায়?
তিনি অভিযোগ করেন, এখন বলা হচ্ছে সংকট নেই, বরং কিছু মানুষ তেল মজুত করে চোরাই পথে বিক্রি করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ কষ্ট করে তেল সংগ্রহ করছে, অথচ তাদেরই ‘তেল চোর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত চোর কারা, কোথা থেকে তেলের ড্রাম উদ্ধার হচ্ছে—এসব জনগণের অজানা নয়।
সরকারি দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, একদিকে বলা হচ্ছে জ্বালানি বা বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই, অন্যদিকে প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে। যদি সত্যিই কোনো সংকট না থাকে, তাহলে এ ধরনের পরিস্থিতি কেন তৈরি হচ্ছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
চাঁদাবাজির রেট দিন দিন সব সেক্টরে বাড়ছে বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতিষ্ঠ জনগণ দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে পিষ্ট। জ্বালানিসংকটে পরিবহন খরচ আর বাড়তি চাঁদার চাপ খেটে খাওয়া মানুষের ঘাড়ে চাপছে।
কুশল/সাএ
