যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত অতি গোপন সামরিক ঘাঁটি ‘এরিয়া ৫১’কে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ওই এলাকায় একাধিক ভূমিকম্পের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন দাবি—এর মধ্যে গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ মেলেনি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নেভাডায় অবস্থিত এই গোপন মার্কিন বিমানঘাঁটির আশপাশে গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১৭টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের মাত্রা ছিল প্রায় ৪.৪ এর কাছাকাছি।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভূমিকম্পগুলোর কেন্দ্র ছিল এরিয়া ৫১ থেকে কয়েক মাইল দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২.৫ মাইল গভীরে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় এই সামরিক স্থাপনাটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নানা প্রতিক্রিয়া ও গুজব। অনেকেই ধারণা করছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো গোপনে কোনো অস্ত্র পরীক্ষা—সম্ভবত পারমাণবিক পরীক্ষা—চালিয়েছে। তবে এ ধরনের দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে এবং রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়েই এরিয়া ৫১-এ ১৭টি ভূমিকম্প দেখা যাচ্ছে।”
যদিও এসব দাবি ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত এরিয়া ৫১ এলাকায় সামরিক কার্যক্রম, ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা বা প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক কারণেও এ ধরনের ছোট কম্পন হতে পারে বলে ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন।
এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো কোনো সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
কুশল/সাএ
