সোমবার , ৪ মে ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. তথ্য-প্রযুক্তি
  7. বিনোদন
  8. মতামত
  9. সর্বশেষ
  10. সারাদেশ

কৃষিশ্রমিকের মজুরি দেড় মণ ধানের দামের সমান

ঢাকা ইনফো২৪
মে ৪, ২০২৬ ৫:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলাজুড়ে এখন আগাম জাতের বোরো ধান কাটার ধুম পড়েছে। এলাকার ধানকাটা কৃষিশ্রমিকরা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটতে যাওয়ায় ধানকাটা কৃষিশ্রমিকের দৈনিক মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়ে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত। আর বর্তমানে বাজারে মোটা জাতের কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫ কেজির প্রতিবস্তা ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকায়। অর্থাৎ দুই মণ মোটা ধান বিক্রির দাম এক কৃষিশ্রমিকের দৈনিক মজুরির সমান। এমন পরিস্থিতিতে ধান চাষ কৃষকের লোকসানের মুখে পড়েছেন।


স্থানীয় কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় বর্তমানে আগাম বোরো কাটার মৌসুম চলছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে পুরোদমে শুরু হবে। বৈশাখের প্রখর রোদের পাশাপাশি কয়েকদিন থেকে অবিরাম ঝড়োবৃষ্টি শুরু হওয়ায় কৃষকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। খেতের পাকা ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। অবিরাম বৃষ্টির জন্য খেতের ধান ভেজে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জমিতে হাটু পানি জমে যাওয়ায় খেতের পাকাধান যেকোনো মূল্যে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এই সুযোগে ধানকাটা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি বেড়ে গেছে।


উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষিশ্রমিকের সর্দার আব্দুর রহমান বলেন, ধানকাটা মৌসুমে তাদের মজুরির ভালো দাম পাওয়া যায়। গত রোববার (৩ মে) এলাকার হাসু খন্দকারের ৫ বিঘা জমির মিনিকেট জাতের ধান কেটে সড়কে ওঠে দেওয়ার জন্য চুক্তি হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। ১১ কৃষিশ্রমিক একদিনে চুক্তির জমির ধান কেটে দিয়েছেন। এতে এক-একজনের মুজরি পড়েছে ১৫৫০ টাকা করে। বছরের পুরো সময় তাদের কাজ থাকে না। এখন মজুরি ভালো পাওয়া গেলে অন্য সময় সেই টাকা দিয়েই তাদের পেট চালাতে হয়।


এদিকে বর্তমানে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, মাঝে মধ্যে হালকা-ভারি বৃষ্টি হওয়ায় ধানখেতের দূরত্ব আর খেতে জমে থাকা পানির ওপর ভিত্তি করে শ্রমিকরা তাদের মজুরি বাড়িয়ে দিয়ে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা দাম হাঁকছেন। কৃষকরা তাদের খেতের ধান ঘরে তুলতে দাম কমবেশি দরদাম করে শ্রমিক কিনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।


তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চড়া দামে দৈনিক জনপ্রতি শ্রমিকের মজুরি দিয়ে ধান কাটাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বছর প্রয়োজন মাফিক ডিজেল পাওয়া যায়নি। সার ও কীটনাশকের দামও বেশি ছিল। তার ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। ধানকাটা শ্রমিকের এমন মূল্য দিয়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে হলে লোকসান ছাড়া উপায় নেই।


চিকন ধান (মিনিকেট) ধান এক হাজার টাকা মণ দরেও বিক্রি হচ্ছে না বলে জানান একই গ্রামের হাসু খন্দকার। তিনি বলেন, ৭৫ কেজি ওজনের এক বস্তা চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ টাকায়। তবে এক বস্তা মোটা ধানের দাম ১১০০ টাকা থেকে ১১৫০ টাকা বস্তার বেশি দিতে চাইছেন না ক্রেতারা। তবে ১৫০০ টাকা মজুরি দিয়ে ধান কেটে ঘরে তুলত যে খরচ হয়, তাতে ধান বিক্রি করে খরচ উঠবে না। কৃষকের মরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না।


ফুলবাড়ী পৌরএলাকার ধান হাটের আড়তদার ও ব্যবসায়ী লিটন প্রসাদ বলেন, বর্তমানে আগাম জাতের চিকন (মিনিকেট) কাঁচা সবুজ ধান ৭৫ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। একই জাতের শুকনো ধান কেনাবেচা হচ্ছে ২০৫০ থেকে ২১০০ টাকা বস্তা। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে মোটা ধান বাজারে ওঠলে এসব ধানের দাম আরও কমে আসতে পারে। এই টাকায় ধান বিক্রি করে কৃষকের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তফিন বলেন, এ বছর উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন ধান। আশা করা যায় উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।


এদিকে দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত ২৫ এপ্রিল থেকে ২ মে সকাল ৬টা পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


আমার বাঙলা/আরএ

ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।