বিএনপি কর্মী সোহেল রানাকে (৪০) হত্যার জন্য ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা থানার হলরুমে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জর্ডানপ্রবাসী সোহেল রানাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ বিবস্ত্র করে মুখমণ্ডল পুড়িয়ে বিকৃত করা হয় এবং শরীরের স্পর্শকাতর অংশ কেটে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর বিলের ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তে পুলিশ সুজন খলিফা ওরফে সুজন কানা, লিমন, মহিন উদ্দিন, জাহাবুল ইসলাম জাবুল ও মো. শাওন—এই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে মহিন, জাবুল ও শাওন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া তুষার, খোকনসহ আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে।
স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন সুজন কানার বাড়িতে একটি বৈঠকে পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে অগ্রিম হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং হত্যার পর বাকি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর সোহেল রানাকে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় রামচন্দ্রপুর বিল এলাকায়। সেখানে আগে থেকেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিল অন্য আসামিরা। পরে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর পর মরদেহ বিকৃত করে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়।
পরে হত্যাকারীরা মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সুজন কানার বাড়িতে গিয়ে বাকি টাকা নেয় এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আসামিদের স্বীকারোক্তির মধ্যে মিল পাওয়া গেছে। তবে মামলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনও উদঘাটন বাকি রয়েছে।