উখিয়া উপেজলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ ভোল্টেজ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পর দিন স্বাভাবিক ভোল্টেজ না থাকায় ঘরের ফ্যান ঘুরছে ধীরগতিতে, ফ্রিজ কাজ করছে না ঠিকমতো, আর টিভি, রাউটার, কম্পিউটার, চার্জারসহ মূল্যবান বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে একের পর এক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ থাকলেও যেন নেই। কখনো অতিরিক্ত লো-ভোল্টেজ, আবার হঠাৎ হাই-ভোল্টেজে মুহূর্তেই পুড়ে যাচ্ছে ঘরের সরঞ্জাম। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং অনলাইনভিত্তিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কুতুপালং পশ্চিমপাড়া এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক কফিল উদ্দীন বলেন, “আমাদের পশ্চিমপাড়ায় অধিকাংশ সময় বিদ্যুতের ভোল্টেজ ১০০-এর উপরে ওঠে না। বাসাবাড়ির পানির মোটর চালু হয় না, ফ্রিজ ঠিকমতো কাজ করে না, ফ্যান ধীরগতিতে ঘোরে। রাতে গরমে ঘুমানোই দায় হয়ে পড়ে।তিনি আরো বলে পশ্চিম পাড়া এলাকার বিদ্যুৎ লাইনের সমস্যা নিরসনে প্রকৌশলী দিয়ে পরিদর্শন করানো হলেও তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে, এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। “লো-ভোল্টেজের কারণে টিভি, রাউটার, চার্জারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেক সময় হঠাৎ ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও আমরা স্বাভাবিক সেবা পাচ্ছি না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং অভিযোগ রয়েছে, কুতুপালং পশ্চিমপাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু দালাল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা টমটম চার্জিংয়ের জন্য অবৈধ সংযোগ দিয়েছে। এসব অবৈধ লোডের কারণে পুরো এলাকায় ভয়াবহ ভোল্টেজ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় অবৈধ সংযোগ বাণিজ্য চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ গ্রাহকরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অথচ অবৈধ সংযোগধারীরা নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।
এদিকে নিম্ন ভোল্টেজের কারণে অনেক এলাকায় পানির মোটর চালু করা যাচ্ছে না। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান না চলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে শিশু ও বৃদ্ধরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ করে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করছেন, তবুও রক্ষা মিলছে না।
সচেতন মহলের প্রশ্ন— জনগণের টাকায় পরিচালিত বিদ্যুৎ বিভাগ কাদের স্বার্থ রক্ষা করছে? কেন বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হবে? দ্রুত ট্রান্সফরমার পরিবর্তন, বিদ্যুৎ লাইনের সংস্কার এবং অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান না চালালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাভাবিক ভোল্টেজ নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কুশল/সাএ