কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে একটি দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে এই নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল)।
জেলা পরিষদের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পকে ঘিরে শোলাকিয়া এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জানা গেছে, চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে অনুষ্ঠিত ১৯৯তম শোলাকিয়া ঈদের জামাতে জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পরবর্তী ঈদের আগেই ঈদগাহ ময়দানে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ফটক নির্মাণ করা হবে। সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই দ্রুত সময়ের মধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া ও বাজেট অনুমোদন সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতরের পরপরই দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হোসেনপুর উপজেলায় পূর্বনির্ধারিত অন্য একটি কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় সময়মতো উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন ঈদের জামাতস্থল হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই ঈদগাহে ২৬৫টি কাতারে লক্ষাধিক মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন।
ইতিহাসবিদদের তথ্যমতে, ১৮২৮ সালে সুফি সৈয়দ আহমেদের উদ্যোগে এখানে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী এই ঈদগাহে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন। ঈদের জামাতকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
স্থানীয়দের মতে, নতুন এই ফটক নির্মিত হলে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও প্রবেশব্যবস্থা আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে এটি দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।
এসময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক রমজান আলী, বিএনপি নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ, করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের প্রধান ইমাম আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, সাবেক কমিশনার সুলতান আহমেদ প্রমুখ।
কুশল/সাএ