রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের পাকশিয়া গ্রামের প্রবাসী যুবক হাসান গালিবের মরদেহ ১৮ দিন পর দেশে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে পুরো এলাকা ।
হাসান গালিব বোয়ালিয়া ইউনিয়নের পাকশিয়া গ্রামের খলিল সরদারের সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন হাসান গালিব। সেখানে তিনি জহুরবারু শহরের একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ ও সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় প্রবাস জীবন শুরু করলেও সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
গত ২৪ এপ্রিল মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যান হাসান গালিব। মৃত্যুর ১৮ দিন পর সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে মঙ্গলবার মরদেহ গ্রামের বাড়ি পাকশিয়ায় আনা হয়।
লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা গালিবের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছানোর সেই মুহূর্ত যেন পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দেয়।
মঙ্গলবার পাকশিয়া সরদার বাড়িতে মরহুমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এ দিকে স্বামীর মৃত্যুতে কান্না ও আহাজারিতে ভেঙে পড়েছেন তার স্ত্রী সামিয়া খন্দকার স্বর্ণা। প্রিয় মানুষের মৃত্যুতে তিনি শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন।
কুশল/সাএ