আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার মঙ্গলবার বরিশালে বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সিস্টেম আধুনিক না হলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিকল্পিত নগরী গড়তে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশেও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে হলে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কোন বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১২ মে) বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে ‘বরিশাল নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থপনা’ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার আরো বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে মানুষের আচরণগত পরিবর্তন আনতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থপনার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে কোথাও সিস্টেমেটিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় না। অনেক জায়গায় দেখা যায় নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার কারণে পানি দূষণের মাধ্যমে নদীর পরিবেশ নানাভাবে দূষিত হচ্ছে। এসব দূষিত নদীর মাছ খাওয়ার মাধ্যমে মানব শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করে। যা ক্যান্সারের মতো মরণঘাতি রোগের কারণ।
উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক বিশ্বে বর্জ্য এখন আর আবর্জনা নয়, বরং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা হচ্ছে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা। সঠিক ব্যবস্থপনা করতে পারলে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাড়িতে বা কর্মক্ষেত্রে জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা করা জরুরি। পচনশীল বা জৈব বর্জ্য থেকে উন্নত মানের জৈব সার তৈরি করা যায়, যা কৃষি উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল বারী সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ীগনও উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক আরেঅচনা সভায় জানান, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। এ সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সে লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য সেবাকে আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে ‘হেলথ কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে । এই কার্ড ব্যবহারকারীরা সহজেই সুলভ মূল্যে সরকারী হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি ।
দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সরকারি উদ্যোগে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালু থাকলেও সেগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো দরকার। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ ও আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহজেই স্বাস্থ্যসেবা পাবে। এসময় তিনি স্বাস্থ্যসেবা সহজিকরণে গ্রাম অঞ্চলে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার’ চালুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও জানান।
নার্সিং এডুকেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এখনো নার্সিং পেশাকে সম্মানজনক স্থানে নিতে পারিনি। এই পেশাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও নার্সদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে যেন তাদেরকে বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়।
দেশের মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে পধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক পুরানো। দেশে বিরাজমান শিক্ষা ব্যববস্থায় ডাক্তার, নার্স ও মেডিকেল টেকনলোজিস্টরা বাধ্য হয়ে মুখস্ত নির্ভর পড়াশোনা করে। কেননা এই কারিকুলাম অনেকাংশেই মুখস্ত বিদ্যাকে উৎসাহিত করে। এই পদ্ধতি থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা ।
তিনি বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেন দেশের প্রতিটি মানুষ মাসে একবার ব্লাড প্রেসার, ডায়বেটিস ও ওজন পরিক্ষা করতে পারে। এই সেবার আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল টেকনিশিয়ান, ডাক্তার ও নার্স ২৪ ঘন্টা রোগীদের জরুরি সেবা প্রদান করবে বলেও জানান তিনি।
শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ এ কে এম মশিউল মুনীরের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. এস.এম. খালিদ মাহমুদ শাকিল ও শেবাচিমের সহকারী পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ মাহামুদ হাসান বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
কুশল/সাএ