
রাশিয়ার ‘শয়তান-২’ ক্ষেপণাস্ত্র
পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে ‘শয়তান-২’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে পুতিন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মিসাইল সিস্টেম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি যুদ্ধের ময়দানে মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ২০৮ টন ওজনের এই ‘ডুমসডে’ রকেটটি উচ্চতায় প্রায় ১৪ তলা ভবনের সমান।
ক্রেমলিন নেতা জানিয়েছেন, আরএস-২৮ সারমাত উত্তর বা দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে পশ্চিমে আঘাত হানতে সক্ষম। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা বর্তমান বিশ্বের যেকোনও শক্তিশালী পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় চার গুণ বেশি।’

আরএস-২৮ সারমাত মিসাইল
পুতিন আরও দাবি করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কেবল ব্যালিস্টিক ট্র্যাজেক্টোরিতেই নয়, বরং সাবঅরবিটাল পথেও চলতে পারে। এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি এবং এটি বর্তমান বা ভবিষ্যতে আসতে পারে এমন যেকোনও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।
পুতিনের কাছে স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সের কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ এই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্রেমলিনের দাবি সত্য হলে এটি হবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্র দ্বিতীয় সফল পরীক্ষা। সাধারণত যেকোনও নতুন কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের আগে ডজনখানেক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক বছর পিছিয়ে আছে। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর এটিই এর প্রথম সফল মিশন। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্লেসেটস্ক কসমোড্রোমে এটি উৎক্ষেপণ প্যাডেই বিস্ফোরিত হয়ে ২০০ ফুট চওড়া গর্ত তৈরি করেছিল। এ ছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বরে উৎক্ষেপণের পরপরই একটি রকেট বিধ্বস্ত হয়।