সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান ‘ফিডিং কর্মসূচি’ বা মিড ডে মিলের খাবার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা খাবারে কোনো ধরনের মানহীনতা বা অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা বনরুটি, নষ্ট ডিম, ছোট ও পচা কলা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে উপসচিব মরিয়ম বেগম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, খাদ্য গ্রহণের আগে সরবরাহকৃত খাবারের মান ও পরিমাণ নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় প্রধান শিক্ষকদের জন্য কয়েকটি বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং ওজন পরীক্ষা করা, বনরুটি তাজা ও ফাঙ্গাসমুক্ত কি না দেখা, ডিম ফাটা বা দুর্গন্ধযুক্ত কি না যাচাই করা এবং কলা দাগহীন ও পোকামুক্ত কি না নিশ্চিত হওয়া। অতিরিক্ত পাকা বা পচা কলা গ্রহণ না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুটের প্যাকেট অক্ষত আছে কি না এবং মোড়কের তথ্য স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ খাবার গ্রহণ করা যাবে না। খাবার গ্রহণের পর বিদ্যালয়ে তা উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একইসঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খাবার দিলে তা গ্রহণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।