রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। মাত্র সাত ঘণ্টার ব্যবধানে মূল অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে হত্যাকাণ্ডের নানা রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বামীকে পালানোর সুযোগ দিতে দরজা খোলেননি স্ত্রী
পুলিশের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় রামিসার মা বারবার দরজায় নক করলেও অভিযুক্ত নারী স্বপ্না ইচ্ছাকৃতভাবে দরজা খোলেননি।
পুলিশ বলছে, মূল অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা যেন পালিয়ে যেতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্বপ্না দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ রাখেন। পরে জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই দরজা খোলা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডে স্বপ্না সরাসরি সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মাত্র ৭ ঘণ্টায় গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান শুরু করে পুলিশ। ঘটনার কিছু সময় পর স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করা হয়। তবে জাকির পালিয়ে যায়।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, জাকির নারায়ণগঞ্জ-এর একটি দোকানে বন্ধুর পাঠানো টাকা তুলতে গেছে। এরপর স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বিকাশের দোকান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিকৃত লালসার শিকার হয়েছিল রামিসা!
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত জাকির একজন রিকশা মেকানিক এবং তার বিরুদ্ধে নাটোর-এ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, শিশুটি প্রতিবেশীর বিকৃত লালসার শিকার হয়েছিল। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এরপর আলামত গোপন ও মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ধ র্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
যেভাবে সামনে আসে হত্যাকাণ্ড
পুলিশ জানায়, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে প্রায় ১৭ বছর ধরে বসবাস করছিল। অন্যদিকে অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান। এরপর সন্দেহ হলে তিনি দরজায় নক করতে থাকেন।
পরে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খাটের নিচে মস্তকবিহীন দেহ, বাথরুমে মাথা
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির খণ্ডিত মাথা।
নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুল-এর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ফ্ল্যাটের ভেতরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। পুলিশ বলছে, জাকিরকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘ সময় দরজা খোলেননি স্বপ্না। পরে জাকির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে দরজা খোলেন তিনি। এ ঘটনায় স্বপ্নাকেও সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ।