গাজীপুরের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। আদালতে ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ, জব্দকৃত আলামত উপস্থাপন এবং দ্রুত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করায় মামলাটি এখন দ্রুত রায় ঘোষণার দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে গাজীপুর আদালতে এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি কেটু মিজান ওরফে কোপা মিজান ও তার স্ত্রী গোলাপিসহ মোট ৮ আসামিকে হাজির করা হয়। একই দিনে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জব্দকৃত বিভিন্ন আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং আলামত জব্দের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত চন্দ্র সরকার বলেন,
“হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দকৃত আলামতের তিন জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মামলার ‘মেরিট’ (তথ্য-প্রমাণ) অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আদালতের কার্যক্রমও দ্রুত এগোচ্ছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে।”
জিএমপির বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার অগ্রগতি আশানুরূপ। বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত চলায় মামলাটি অল্প সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এদিকে মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিক তুহিনের বড় ভাই সেলিম বলেন, “আমাদের পরিবার আদালতের ওপর সম্পূর্ণ আস্থাশীল। সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর হবে—এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।”
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণের অংশ হিসেবে নিহত তুহিনের ভাতিজা সোহাগ সুরতহাল সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া আদালত ইতোমধ্যে পুলিশ সদস্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছে।
এদিন আলোচিত এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত কেটু মিজানকে আদালতে হাজির করার সময় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর আগে আদালতে আনার সময় প্রিজন ভ্যান থেকে নামার মুহূর্তে কেটু মিজানের দেওয়া কিছু চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর সম্পাদক ও ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন,
“বাংলাদেশে অতীতে বহু সাংবাদিক হত্যার বিচার ঝুলে থাকার নজির রয়েছে। তবে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় যেভাবে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম এগোচ্ছে, তা সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি আশার বার্তা। এই মামলার সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হলে তা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনীসহ অন্যান্য সাংবাদিক হত্যা মামলার বিচারের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ আগস্ট গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মামলাটিতে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়াকে দেশের সাংবাদিক হত্যা মামলার ইতিহাসে একটি বিরল ও ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।