ভারতের কেরালার একটি পরিত্যক্ত পাথরখনিতে ফটোশুট করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দিল্লির ২৬ বছর বয়সী মডেল দিব্যাংশু জোশি। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দেশটির ফ্যাশন অঙ্গনে নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ মে কেরালার এর্নাকুলাম জেলার একটি পরিত্যক্ত পাথরখনিতে দুর্ঘটনার শিকার হন দিব্যাংশু। তিনি জনপ্রিয় হস্তনির্মিত পোশাকের ব্র্যান্ড ‘কার্তিক রিসার্চ’-এর দিল্লি রিটেইল আউটলেটের ব্যবস্থাপক ছিলেন। একটি মৌসুমি প্রচারণার ফটোশুটে অংশ নিতে তিনি কেরালায় গিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় দুই দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা খনিটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গভীর খাদ ও পানিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশও নিষিদ্ধ ছিল।
ঘটনার পর সামনে এসেছে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, শুটিং আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি দুর্ঘটনার সময় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যেও মিল পাওয়া যায়নি।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফটোশুট চলাকালে পা পিছলে খনির গভীর পানিতে পড়ে যান দিব্যাংশু জোশি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ ফুট গভীর থেকে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পেরুম্বাভুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা বাড়ার পর কার্তিক রিসার্চের বক্তব্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যের মধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আসে। কোচির একটি প্রোডাকশন হাউসের প্রতিনিধি রাজীব নীলকান্তনের অভিযোগের ভিত্তিতে কোদানাদ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সভাপতি শিমি ভার্গিস ও রাজীব নীলকান্তন দাবি করেন, খনিতে প্রবেশ বা সেখানে শুটিংয়ের জন্য কোনো সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে কার্তিক রিসার্চের দাবি, দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠাতা কার্তিক কুমরা নিজেই দিব্যাংশুকে খুঁজতে পানিতে নেমেছিলেন এবং দ্রুত উদ্ধারসেবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, দিব্যাংশু পানিতে পড়ে যাওয়ার পর আর কেউ খনিতে ঝাঁপ দেয়নি। শুটিং চলাকালে তিনি খনির গভীর অংশে পিছলে পড়ে যান এবং পরে উদ্ধারকারী দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।
অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শুটিং আয়োজন এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে আসায় ঘটনাটি ঘিরে নতুন প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।