জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুন বিশ্বব্যাপী বিশ্ব দুগ্ধ দিবসটি পালন করে আসছে। মানুষের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে দুধের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর দুধের পাশাপাশি মহিষের দুধও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং দেশের দুগ্ধশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। মহিষের দুধে গরুর দুধের তুলনায় অধিক পরিমাণে চর্বি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকায় এটি থেকে উন্নতমানের দই, ঘি, মাখন, পনির (চিজ) ও বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন সম্ভব।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহিষের দুধের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে ইতালিতে মহিষের দুধ থেকে উৎপাদিত মোজারেলা চিজ বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও মহিষের দুধের তৈরি দইয়ের বিশেষ সুনাম রয়েছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মহিষের দুধের টক দই দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাদৃত হয়ে আসছে।
মহিষ পালন সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোছাঃ সুমনা আক্তার বলেন, “বাংলাদেশে দুগ্ধশিল্পে গরুর দুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মহিষের দুধকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। মহিষের দুধ থেকে দই, ঘি, মাখন, পনির, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দুগ্ধ খাতে বৈচিত্র্য আসবে।”
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক দুধ উৎপাদন ১৫৫ দশমিক ৩৮ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। ফলে মাথাপিছু দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৯ দশমিক ২৯ মিলিলিটার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের চরাঞ্চল ও নদীবেষ্টিত এলাকায় মহিষ পালন বহু মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের মহিষ, মানসম্মত পশুখাদ্য এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাতকে আরও লাভজনক করা সম্ভব। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
এদিকে, এবারের বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের প্রতিপাদ্য “Celebrating Women Farmers” (নারী কৃষকদের উদযাপন)। কৃষি ও দুগ্ধখাতে নারী কৃষকদের অবদানকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবাদিপশু পালন, দুধ সংগ্রহ, দই ও ঘি উৎপাদনসহ বিভিন্ন কাজে নারীরা সরাসরি যুক্ত থেকে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী কৃষকদের দক্ষতা ও অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের দুগ্ধশিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে সংশ্লিষ্টরা দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মহিষসহ সকল দুগ্ধ প্রাণীর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং দেশের দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুশল/সাএ