শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার, খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার নেপথ্যে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত উদ্ঘাটনের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে মশাল মিছিল এবং আগামী শুক্রবার সারাদেশ বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। তবে ফের লাগাতার কর্মূসূচি পালন করবে কি-না, সেই বিষয় কিছু জানা যায়নি।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি দুইদিনের ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্লাটফর্মটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আজকে আমরা ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য এখানে বসেছি। রাষ্ট্র শহীদ ওসমান হাদির খুনকে কেন্দ্র করে একটি অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে। আমরা চাই এই রাষ্ট্রের কুশিলবরা যাতে আলোর বুক দেখে। এইজন্য সন্ধ্যায় ইনকলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে আমরা একটা মশাল মিছিলের আয়োজন করেছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় এই মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে এবং শুক্রবার বাদ জুমা আমরা এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভের ডাক দিয়েছি। বাংলাদেশের সকল জনগণকে শহীদ ওসমান হাদির খুনিদেরকে বিচারের মুখোমুখি করবার জন্য বাদ জুমা সারাদেশে বিক্ষোভ আহ্বান করছি।
সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সময় নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আর কোনো বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খুনিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্যকে ধোঁয়াশাপূর্ণ। তাই খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবিও জানান তিনি।
জাবের আরও অভিযোগ করেন, ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভেতরে যারা খুনিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে তারাও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
এসময় ওই সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্লাটফর্মটি প্রকাশনা সম্পাদক ফাহিম মীর, সদস্য হাবিবুল্লাহ মিসবাহসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। তিনদিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্র। এরপরই বিচার দাবিতে সরব হয়ে ওঠে প্লাটফর্মটি, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও ইতোমধ্যে পালন করে।