বৃহস্পতিবার , ৪ জুন ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. তথ্য-প্রযুক্তি
  7. বিনোদন
  8. মতামত
  9. সর্বশেষ
  10. সারাদেশ

বন্ধু রাষ্ট্র না মানবিক রাষ্ট্র? একজন ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতা

মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন
জুন ৪, ২০২৬ ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে প্রায়ই “বন্ধুত্বপূর্ণ” বা “বিশেষ” সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ইতিহাস, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার কারণে এই সম্পর্কের গুরুত্ব নিঃসন্দেহে অনেক। রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব আমি অস্বীকার করি না। তবে একজন সাধারণ নাগরিক ও ভ্রমণকারী হিসেবে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা আমাকে বারবার একটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ কী?

গত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। যুক্তরাজ্যের Heathrow Airport, হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তুরস্কের Istanbul Airport, সিঙ্গাপুরের Changi Airport, সৌদি আরবের Jeddah ও Riyadh Airport, মালয়েশিয়ার Kuala Lumpur International Airport, থাইল্যান্ডের Suvarnabhumi Airport, শ্রীলঙ্কা এবং কানাডার Pearson International Airport ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। পাশাপাশি স্থলপথে ভারতের দার্জিলিং, গ্যাংটক ও লাচং ভ্রমণও করেছি।

ভ্রমণের সময় Priority Pass সুবিধার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরের VIP Lounge ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছি। এসব স্থানে যাত্রীসেবা, পেশাদারিত্ব এবং ভদ্র আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি দূর করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের আতিথেয়তা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও সেখানে মিলেছে।

কিন্তু শ্রীলঙ্কা যাওয়ার পথে ভারতের চেন্নাই বিমানবন্দরে আমার অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ট্রানজিট যাত্রী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দীর্ঘ সময় একটি ছোট ও অপরিচ্ছন্ন কক্ষে অপেক্ষা করতে বলা হয়। সেখানে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা ছিল না, বিশ্রামের সুযোগ ছিল সীমিত এবং খাবারের ব্যবস্থাও সন্তোষজনক ছিল না। Priority Pass থাকা সত্ত্বেও লাউঞ্জ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কয়েক ঘণ্টা ধরে কার্যত অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তির মধ্যে সময় কাটাতে হয়েছে।

অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার চেয়েও বেশি হতাশাজনক ছিল কিছু কর্মচারীর আচরণ। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেখানে ভদ্রতা ও পেশাদারিত্ব প্রত্যাশিত, সেখানে রূঢ় ও অসম্মানজনক ব্যবহার আমাকে বিস্মিত করেছে। একজন যাত্রী হিসেবে নিজেকে সম্মানিত নয়, বরং অবহেলিত মনে হয়েছে।

এ ধরনের অভিজ্ঞতা অবশ্য একবারেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে শিলিগুড়ি সফরের সময় একটি হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিতে গিয়ে মুসলিম পরিচয় জানার পর আমাকে কক্ষ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। ঘটনাটি শুধু অস্বস্তিকর ছিল না, বরং গভীরভাবে অপমানজনকও ছিল। একজন পর্যটক হিসেবে আমি নিজেকে বৈষম্যের শিকার বলে অনুভব করেছি। একজন মানুষের পরিচয় তার ধর্ম নয়, তার মানবিক সত্তা এই বিশ্বাস থেকেই ঘটনাটি আমাকে ব্যথিত করেছিল।

আরও একটি বিষয় আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ঘটনায় দেখা যায়, একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে গুরুতর অসুস্থ এক যাত্রীর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলে ভারতে জরুরি অবতরণের অনুমতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, একই ধরনের মানবিক সংকটে পাকিস্তান জরুরি অবতরণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের উদাহরণ স্থাপন করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাগুলোর সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে এসব ঘটনা একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে—মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে কি মানুষের জীবন জাতীয়তা, ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়া উচিত নয়?

আমার বিশ্বাস, একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তার জীবন রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা সভ্যতার অন্যতম মৌলিক মূল্যবোধ। মানবিকতার প্রশ্নে পৃথিবীর সব রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের জন্য একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

আমি কোনো রাষ্ট্র বা জনগোষ্ঠীকে দোষারোপ করতে চাই না। একটি দেশের সরকার, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ এক নয়। ভারতের অসংখ্য মানুষের আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও আতিথেয়তার কথাও আমি জানি এবং সম্মান করি। কিন্তু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে চাই—রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব তখনই সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন সেই বন্ধুত্বের প্রতিফলন সাধারণ মানুষের প্রতি আচরণেও দৃশ্যমান হয়।

কূটনৈতিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক সম্মান, মানবিক মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন আচরণ। কারণ শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি শুধু তার অর্থনীতি, প্রযুক্তি বা সামরিক সক্ষমতায় নয়; বরং মানুষকে কতটা সম্মান, নিরাপত্তা ও মানবিকতা দিতে পারে, তার মধ্যেই নিহিত।

বন্ধুত্বের প্রকৃত পরীক্ষা কূটনৈতিক ঘোষণায় নয়, বরং মানুষের প্রতি আচরণে। আর মানবিকতাই সেই পরীক্ষার সর্বোচ্চ মানদণ্ড।

লেখক: মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন

কানাডা থেকে শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মী ।

nazimcanada25@gmail @gmail.com

ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।