ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নে অবস্থিত বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাসরিন আক্তার। তিনি ২০০৪ সালে এসএসসি ও ২০০৯ সালে এইচএসসি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করেন। অনিয়মিত থাকায় তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্সে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। তারপরও তিনি ইডেন মহিলা কলেজ থেকে অনার্স পাশ করেন বলে ভূয়া সনদ দেখান।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তিনি কোনো দিন ইডেন মহিলা কলেজের বারান্দা পর্যন্ত যাননি। বরং ২০১৩ সালে তিনি চৌধুরী ছবুরুন্নেছা মহিলা কলেজ থেকে সাধারণ ডিগ্রি পাস করেন। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস সনদ দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড, এনটিআরসিএর (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) সনদ জালিয়াতিসহ নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চাকরি নেন নাসরিন আক্তার। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর তার সনদ ভুয়া উল্লেখ করে সরকার থেকে প্রাপ্ত ৪ লক্ষ ২১ হাজার ৯ শত ২৮ টাকার বেতন ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
গত বছরের ১৫ ও ১৬ই অক্টোবর শিক্ষা পরিদর্শক সনজয় চন্দ্র মন্ডল, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মো. নূরুল আফছার ও অডিটর সিরাজুল ইসলাম বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন ও সনদ যাচাই করে নাসরিন আক্তারের বিরুদ্ধে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর ঐ প্রভাষকের বিরুদ্ধে এ আদেশ দেন।
জানা যায়, নাসরিন আক্তারের বাড়ি নকলা উপজেলার বারমাইসা গ্রামে। স্বামী নাজমুল হক উপজেলার গনপদ্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের মৌলভী শিক্ষক। মৌলভী শিক্ষক হওয়ার পরও তিনি তার স্ত্রীকে দিয়ে জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে প্রভাষক পদে চাকুরির ব্যবস্থা করে দেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীনূর খান এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেখানে নাসরিন আক্তারের নিয়োগের জাল জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর তাকে দুই দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর পরিচালক, আঞ্চলিক কার্যালয়, ময়মনসিংহ ও পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) কর্তৃক তদন্তেও নাসরিন আক্তারের সনদ জাল ও বানানো বলে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। যা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে একাধিকবার প্রভাষক নাসরিন আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আরিফ রব্বানী বলেন, এনটিআরসিএ কর্তৃক নির্দেশনা মোতাবেক তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশনা এসেছে এবং সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কুশল/সাএ