দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেওয়া পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তারকে (০৭) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩৩) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। প্রথমে ধর্ষণ ও পরে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা এই বিকৃত মানসিকতার খুনি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্নার বাড়ি নাটোরের সিংড়ায়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে অভিযুক্ত দম্পতির সর্বোচ্চ সাজার রায় মেনে নিয়েছে সোহেলের পরিবার। এ রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সিংড়ার মানুষও। দেশের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারকাজ সমাপ্তি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো বলে মনে করছেন আইনজীবী ও সুধীসমাজ।
রবিবার দুপুরে রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর হত্যাকারী সোহেলের নিজ এলাকা নাটোরের সিংড়ার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন।
এদিন দুপুরে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেলের বাড়িতে গিয়ে অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক অবস্থা দেখা যায়। দুপুরে পরিবারের সদস্যদের নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার রায়ের কথা তারা জানতেন না। স্থানীয় লোকজন তাদের বাড়ি এসে রায় ঘোষণার কথা জানান।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন, “আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে এটা আমরা ধারণা করেছিলাম। ফাঁসির রায় আমরা মেনে নিয়েছি। আমাদের সামর্থ্য থাকলে আপিল করতাম।”
সোহেলের পিতা জাকির হোসেন ও সোহেলের মা সাজেদা বেগম বলেন, “আমরা এতটাই গরিব যে আপিল করার মতো টাকা আমাদের নাই। সরকার আইনজীবী দিলে আমরা আপিল করব।”
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেলের রয়েছে কলঙ্কিত অতীত। এলাকাতে পরকীয়া, চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কাজে লিপ্ত ছিলেন তিনি। চার বছর আগে স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে সিংড়া ছেড়ে ঢাকায় আসেন সোহেল।
উল্লেখ্য, পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন।
কুশল/সাএ