
চেকিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্বে খেলার আশায় থাকল দক্ষিণ আফ্রিকা//
ম্যাচের শুরুতেই এবার এগিয়ে গেল চেকিয়া। কিন্তু আগের ম্যাচের মতো এবারও ব্যবধান ধরে রাখতে পারল না তারা। দারুণ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে ঘুরে দাঁড়িয়ে মূল্যবান একটি পয়েন্ট তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আটলান্টায় বৃহস্পতিবার রাতে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। সাদিলেকের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, ২০১০ বিশ্বকাপের স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান মোকোয়েনা।
এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও এগিয়ে যাওয়ার পর খেই হারিয়ে ফেলে চেকিয়া। ১৩ মিনিটে দুই গোল খেয়ে হেরে যায় ২-১ ব্যবধানে। আর মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে আসর শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই অর্ধেই শুরুটা ভালো করে চেকিয়া এবং পরে নিয়ন্ত্রণ নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। পুরো ম্যাচে ৬০ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৭টি শট নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা, এর চারটি ছিল লক্ষ্যে। আর চেকিয়ার ১৪ শটের তিনটি লক্ষ্যে থাকে।
দুই ম্যাচ শেষে একটি করে ড্রয়ে দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ১। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তলানিতে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মেক্সিকো, দুইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল এবং ১২টি গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটিও যাবে পরের রাউন্ডে।
দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল পেয়ে যায় চেকিয়া। সতীর্থের ডি-বক্সে বাড়ানো পাস ধরে ঠাণ্ডা মাথায় শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মিডফিল্ডার সাদিলেক। শুরুর ওই গোল এবং কয়েকবার রক্ষণ ও মাঝমাঠে এলোমেলো হওয়ার পর, পজেশন রেখে ধীরে ধীরে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভীতি ছড়ায় দলটি, যদিও সাফল্য আসেনি।
বিরতির ঠিক আগে বিপদ ডেকে আনতে যাচ্ছিলেন চেকিয়া গোলরক্ষক মাতেই কোভার। ডি-বক্সের বাইরে থেকে মোদিবার ক্রসে কোনো হুমকিই ছিল না, কিন্তু সেটাই ধরতে গিয়ে বল হাতে রাখতে পারেননি কোভার। আলগা বলে শট নেন ফরোয়ার্ড মাসেকো, দ্রুততায় পা বাড়িয়ে সেটা ঠেকিয়ে দেন ডিফেন্ডার ক্রেইসি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্মবিশ্বাসী চেকিয়ার দেখা মেলে। টানা কয়েকটি দারুণ আক্রমণ করে তারা। ৪৮তম মিনিটে দূর থেকে জোরাল শট নেন লুকাস চার্ভ, লাফিয়ে কোনোমতে এক হাত দিয়ে বল বাইরে পাঠান গোলরক্ষক। পরের মিনিটে ভালো পজিশন থেকে গোলরক্ষক বরাবর হেড করে আবার হতাশ করেন পাত্রিক শিক। প্রথমার্ধেও হেডে দারুণ একটি সুযোগ নষ্ট করেন এই ফরোয়ার্ড।
এবং প্রথমার্ধের মতো এবারও মাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চেকিয়া। আরও বেশি সময় বল দখলে রেখে খেলতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং শেষ দিকে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত গোলটিও পায় তারা। ৮২তম মিনিটে মাসেকোর শটে বল ডি-বক্সে চেকিয়ার মিডফিল্ডার পাভেল শুল্টসের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি, যদিও এই খেলোয়াড়ের হাত তার শরীরের সঙ্গে লেগে ছিল। সফল স্পট কিকে সমতা টানেন মিডফিল্ডার মোকোয়েনা।
বিশ্বকাপে এই নিয়ে তিনটি পেনাল্টি পেয়ে সবগুলোয় গোল করতে পারল দক্ষিণ আফ্রিকা এবং প্রতিটিই ম্যাচের সমতাসূচক গোল; আগের দুটি ছিল ১৯৯৮ আসরে সৌদি আরবের বিপক্ষে এবং অন্যটি ২০০২ আসরে প্যারাগুয়ের জালে।
শেষ রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে, আর চেকিয়া লড়বে মেক্সিকোর সঙ্গে। বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার সকালে একই সময়ে হবে ম্যাচ দুটি।