
অস্ট্রেলিয়া কোচ টনি পপোভিচ।
তুরস্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করা অস্ট্রেলিয়াকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমার্ধে যে পারফরম্যান্স করেছে তাসমান সাগর পারের দলটি, তাতে এমন ফলাফলে মোটেও অবাক নন টনি পপোভিচ। অস্ট্রেলিয়া কোচের মতে, প্রথমার্ধে সব জায়গাতেই তাদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
সিয়াটলে শুক্রবার এবারের আসরের সহ-আয়োজকদের একটি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারে অস্ট্রেলিয়া। একই ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল তারা।
স্বাগতিকদের বিপক্ষে এদিন শুরুতেই আত্মঘাতী হয় অস্ট্রেলিয়া। একাদশ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারান বালোগানের পাস ছয় গজ বক্সে ক্লিয়ারের চেষ্টায় নিজেদের জালে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেস।
পরে ৪৩তম মিনিটে ঘটনাবহুল এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে যুক্তরাষ্ট্র। হেডে কাছ থেকে বল জালে পাঠান অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। শুরুতে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। লম্বা সময় নিয়ে ভিএআরের সাহায্যে সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়া। প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে থাকে তারা। এই সময়ে কোনো গোল হজম করেনি দলটি। কিন্তু ওই দুই গোল আর শোধও করতে পারেনি তারা।
ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্ছ্বসিত প্রসংসা করার পাশাপাশি নিজেদের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সের সমালোচনা করেন অস্ট্রেলিয়া কোচ পপোভিচ,‘ তাদের মান মান, শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তারা যা করেছে, এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। প্রথমার্ধে আমরা তাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারিনি। আমরা কোনো চ্যালেঞ্জ জিততে পারিনি, ‘দ্বিতীয় বল’ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারিনি। আমরা সব জায়গায় মন্থর ছিলাম, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে ফেরাতে পারিনি। ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। আর আমরা খুব সহজে দুটি গোল হজম করেছি। গোলগুলো ছিল খুবই সহজ গোল। প্রথমার্ধে আমরা ধারহীন ও মন্থর ছিলাম।’
পরের ধাপে খেলার সম্ভাবনা অবশ্য এখনও শেষ হয়ে যায়নি অস্ট্রেলিয়ার। ‘ডি’ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। প্রথম দুই ম্যাচই জিতে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকালে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। তাদের সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে প্যারাগুয়ে।