ঢাকা: ভারতের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও চীনের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার। দেশের আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পানি বণ্টন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো পর্যালোচনা করে নতুন চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্বের কার্যবিবরণীটি সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উজানের দেশগুলোতে আন্তঃসীমান্ত নদীর ওপর বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানিপ্রবাহ কমে যাচ্ছে, এ কথাটি অসত্য নয়। এছাড়া প্রাকৃতিক কারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উজান অঞ্চলে পানির সার্বিক প্রাপ্যতাও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর এবং এই বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সমন্বয়ে অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।