
ছবি: প্রতিনিধি
নারীশিক্ষা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সমাজ গঠনে কবি সুফিয়া কামালের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, “সুফিয়া কামালের মতো দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব সে সময়ে কাজ না করলে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে থাকত।”
আজ ২১ জুন রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সুফিয়া কামাল: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। কবি সুফিয়া কামাল এবং কবি-গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালকে স্মরণে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রথম দিনের সেমিনারে ‘সুফিয়া কামালের কবিতা: বিষয় ও অনুভবের বৈচিত্র্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাত আরা সোহেলী। এছাড়া ‘বিপন্ন প্রকৃতির বিষণ্ন নারী: সুফিয়া কামালের কবিতায় পরিবেশ-নারীবাদী অনুষঙ্গ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানজীদা মাসুদ।
উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ড. গিয়াস শামীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আসাদুল্লাহিল গালিব।
এসময় মাননীয় উপাচার্য বলেন, বর্তমান সময়েও সুফিয়া কামালের জীবন, আদর্শ ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি শুধু নিজে শিক্ষার আলো গ্রহণ করেননি, বরং সমাজের বিশেষ করে নারীদের শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতে আজীবন নিরলসভাবে কাজ করেছেন। নারীশিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনও নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে সম্পদের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
সুফিয়া কামালের মানবতাবাদী দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য আরো বলেন, তিনি শুধু নারী অধিকার আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন না; মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতিশীল চিন্তারও উজ্জ্বল প্রতীক ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুবুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির গবেষক মাহবুবা রহমান।
সেমিনারে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ সেমিনারের দ্বিতীয় দিনে কবি ও গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও অবদান নিয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।