মিতু হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১:৫০ পিএম আপডেট: ১৭.০৬.২০২৬ ১:৫৪ পিএম (ভিজিট : ৭৯)

X
মিতু হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩
ভোলায় আলোচিত সুমাইয়া আক্তার মিতুর হত্যার প্ররোচনা মামলায় পলাতক প্রধান আসামি স্বামী মো. সোহাগ ও শাশুড়ি মোসা. কহিনুর বেগমসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার অন্য আসামি হলেন মিতুর খালা শাশুড়ি মোসা. মুক্তা আক্তার।
মঙ্গলবার বিকালে র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্প ও র্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকা থেকে এদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে আজ বুধবার (১৭ জুন) সকালে র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর রওনক জাহান সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ৫ জুন ভোলা সদর মডেল থানায় গৃহবধূ মোসা. সুমাইয়া আক্তার মিতু নামের এক গৃহবধূ হত্যার প্ররোচনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার দিনই র্যাব-৮ এর একটি চৌকস দল ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ নিবিড় তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির পর র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় এবং র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি চৌকস অভিযানিক দলের সহযোগিতায় চট্টগ্রামে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পলাতক এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি মো. সোহাগ, ২নম্বর আসামি মোসা. কহিনুর বেগম ও ৪নম্বর আসামি মোসা. মুক্তা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদেরকে চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট ইপিজেড থানায় তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর রওনক জাহান সরকার বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি ভোলা সদর থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম থেকে আসামিদের নিয়ে আসার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’ র্যাব সব সময় নারীর ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন দুপুরে ভোলার শহরের উকিল পাড়া একটি ভাড়া বাসার পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে সুমাইয়া আক্তার মিতুর মরদের উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মিতু ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বশির আহমেদের মেয়ে। এ ঘটনায় মিতুর বাবা মো. বশির আহমেদ বাদী হয়ে ভোলা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় বুধবার দিবাগত রাতে মিতু তার বোন মিমের মোবাইল ফোনে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে জানান যে- স্বামী সোহাগ তাকে মারধরসহ অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী সোহাগ তার শ্বশুর বাড়িতে ফোন দিয়ে তাদেরকে দ্রুত আসতে বলেন। তারা এসে দেখেন ঘরের দরজা খোলা এবং সোহাগসহ ঘরে থাকা তার পরিবারের অন্যান্য লোকজন বাসায় নেই। ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখতে পান ঘরের শয়নকক্ষের খাটের উপর সুমাইয়ার মরদেহ পরে আছে। পরে ভোলা সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।