নবীনগরে আলোচিত শিপ্রা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৭:২৫ পিএম (ভিজিট : ০)

X
শিপ্রা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আলোচিত শিপ্রা রানী হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। ঘটনার দীর্ঘ ৪ বছর পর হত্যাকান্ডের মূলহোতা তাজুল ইসলাম কাজলকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচিত হয়।
রোববার (২১ জুন) রাতে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাজুল ইসলাস কাজলকে গ্রেফতার করে ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদস্যরা। সোমবার সকালে গ্রেফতার কাজলকে পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। গ্রেফতার তাজুল ইসলাম কাজল নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে।
পিবিআই জানায়, পরকীয়া প্রেম এবং ব্ল্যাকমেইলের জেরেই শিপ্রা রানীকে হত্যা করে তাজুল ইসলাম কাজল। পরে ঘাতক কাজল নিজেকে রক্ষার জন্য নাম পরিবর্তন করে লালন মিয়া নাম ধারণ করে নোয়াখালী জেলায় বসবাস ও মাটি কাটার কাজ করে আসছিল।
সোমবার দুুপুরে জেলা শহরের ভাদুঘরে অবস্থিত পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান, পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের সবিনয় দাসের স্ত্রী শিপ্রা রানী দাস। সে নরসিংদী জেলার কালু সাহা বাবুর্চির সাথে রান্নার সহকারী হিসেবে কাজ করতো। সে সুবাদে কালু বাবুর্চির অপর সহযোগী তাজুল ইসলাম কাজলের সাথে শিপ্রার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তারা পরকীয়া প্রেম ও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শিপ্রা তাদের গোপন সম্পর্ক ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে তাজুল ইসলাম কাজলের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এতে তাজুল ইসলাম কাজল ক্ষিপ্ত হয় এবং শিপ্রাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের ১ অক্টোবর তাজুল ইসলাম কাজল কাজের কথা বলে শিপ্রাকে নিয়ে নরসিংদীর মির্জারচর থেকে নৌকায় করে নবীনগরের চরলাপাং গ্রামে যান। পরে সেখান থেকে পাশ্ববর্তী নবীপুর চর এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ শেষে গলা টিপে শিপ্রাকে হত্যা করে।
ঘটনার তিনদিন পর ৪ অক্টোবর নবীনগর থানার পুলিশ শিপ্রার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। পরে তার পরিচয় সনাক্তের পর শিপ্রার স্বামী ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারী নবীনগর থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ক্লুলেস হওয়ায় এর তদন্ত পায় পিবিআই। পরে পিবিআই ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে কালু বাবুর্চিকে গ্রেফতার করে। সে সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
একপর্যায়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মোঃ শাহদাত হোসেন তথ্য প্রযুক্তি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালী থেকে ঘাতক তাজুল ইসলাম কাজলকে গ্রেফতার করে। তিনি আরো জানান, ঘাতক তাজুল ইসলাম কাজল ইতিমধ্যে এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।