বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন শিখরে মেসি

X
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন শিখরে মেসি, ক্লোসেকে ছাড়িয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা
ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের জন্ম দিলেন লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে উঠে গেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে থাকা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬তে উন্নীত করেছিলেন মেসি। সেই সঙ্গে স্পর্শ করেছিলেন ক্লোসের রেকর্ড। ফলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একটি গোলই যথেষ্ট ছিল নতুন ইতিহাস রচনার জন্য।
ম্যাচের শুরুতেই রেকর্ড গড়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। নবম মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা এবং স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। কিন্তু সবার প্রত্যাশা ভেঙে বল পোস্টের ডান পাশ দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন তিনি। ফলে রেকর্ড গড়ার মুহূর্তটি তখনই উদযাপন করা সম্ভব হয়নি।
পেনাল্টি মিসের পরও থেমে থাকেননি মেসি। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রাণভোমরা। একের পর এক আক্রমণ পরিচালনা করেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন। কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি হলেও অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় গোল পাওয়া হচ্ছিল না।
তবে ইতিহাসের দিনটি শেষ পর্যন্ত নিজের করে নেন তিনি। ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। আক্রমণের এক পর্যায়ে বল পৌঁছে যায় তার কাছে। সুযোগ পেয়েই বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন মেসি। তার শটের গতি ও নিখুঁততা এতটাই ছিল যে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগই পাননি।
গোলের সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। কারণ এই গোলটি শুধুমাত্র ম্যাচে দলকে এগিয়ে দেয়নি, একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসেও নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৭তে উন্নীত করেন মেসি। ফলে ১৬ গোল নিয়ে থাকা মিরোস্লাভ ক্লোসেকে পেছনে ফেলে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান তিনি।
বিশ্বকাপের এবারের আসরেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করা গোলটি ছিল চলতি টুর্নামেন্টে তার চতুর্থ গোল। প্রতিটি ম্যাচেই তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে মেসির গোলসংখ্যা ছিল ১৩। তার সামনে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো এবং জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসে। কিন্তু অসাধারণ ধারাবাহিকতায় একের পর এক গোল করে দুই কিংবদন্তিকেই পেছনে ফেলেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন মেসি। গোল করার পাশাপাশি নেতৃত্ব, খেলার নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনন্য।
বিশ্বকাপে নিজের ২৮তম ম্যাচ খেলতে নেমে যে কীর্তি গড়লেন, তা ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন এই রেকর্ড শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসেও এক গৌরবময় সংযোজন।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি আরেকটি প্রমাণ যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেসির নাম শুধু বড়ই হচ্ছে। নতুন রেকর্ডের মাধ্যমে তিনি আবারও দেখিয়ে দিলেন কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।