জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধানকে হত্যার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে হামলা চালিয়ে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। গত রাতে এক হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে আজ বুধবার (১৮ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন। তবে এ হামলার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তেহরান কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের এ দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে গত দুই দিনের মধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতাদের তৃতীয় বড় ধরনের হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হবে এটি। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানির নিহত হন।
পরপর দুইদিনে ইরানের শীর্ষ তিন নেতাকে হত্যার এ ঘটনা ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আজ বুধবার আলি লারিজানি ও গোলামরেজা সোলেইমানির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে লারিজানির হত্যাকাণ্ড ইরানের নেতৃত্বের মাঝে বড় ধরনের কোনও প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
আজ বুধবার ভোরের দিকে তেহরান লারিজানির মৃত্যু নিশ্চিত করার পর আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনও বুঝতে পারেনি, ইরানের সরকার কোনও একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।
আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম বলেছেন, ইসমাইল খতিব ছিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ বলে ধারণা করছেন ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষক।
ইসরায়েলি একাধিক সূত্র বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘোষণা দিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ও প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি বাহিনীকে অন্যান্য ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যার জন্য আগাম অনুমোদন দিয়ে রেখেছেন। যে কারণে হামলা চালানোর আগে প্রতিবার আলাদা করে অনুমতির প্রয়োজন হবে না তাদের।
