জ্বালানি সংকটে বন্ধ ছিল সরকারি অ্যাম্বুলেন্স—আর সেই অচলাবস্থার মূল্য দিতে হলো একজন অসহায় রোগীকে প্রাণ দিয়ে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকে সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়নি, ফলে পথেই মৃত্যু হয়েছে তার। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন সন্ধ্যায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার চরম অব্যবস্থাপনাকে সামনে এনে দিয়েছে।
নিহত খোকা মিয়া (৬০) উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছালুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাখাওয়াত মেম্বারের বড় ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় কালির বাজার এলাকায় একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন খোকা মিয়া। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন।
কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জ্বালানি তেল না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালানো সম্ভব নয়। এতে রোগীকে পাঠাতে বিলম্ব হয়। শেষ পর্যন্ত বিকল্প উপায়ে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনে ঝুলানো ১৮ মার্চের একটি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সংকটের কারণে সাময়িকভাবে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রুহুল আমিন জানান, জ্বালানি তেলের বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অয়ন মণ্ডল বলেন, রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত রেফার করা হয়েছিল, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় সময়মতো পাঠানো সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন এবং দ্রুত জ্বালানির ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঈদের দিনে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্স তেলের অভাবে বন্ধ থাকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই প্রকাশ করেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও এমন প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।
কুশল/সাএ
