তিন বছর ধরে স্বামী প্রবাসে, সন্তান জন্ম দিয়ে আলোচনায় স্ত্রী

X
ফাইল ছবি
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুরিয়াউক ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে এক গৃহবধূর সন্তান প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সন্তান প্রসবের পর গভীর রাতেই ওই গৃহবধূ নবজাতক শিশুকে নিয়ে পাশের নকলাউক গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং বর্তমানে শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে (বিদেশে) অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে শ্বশুর এবং দুই সন্তানসহ বসবাস করতেন স্ত্রী খাদিজা (৩০)। স্বামীর প্রবাসকালীন সময়ে সন্তান প্রসবের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নানান গুঞ্জন ও পরকীয়া সংক্রান্ত আলোচনার সূত্রপাত হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার রাতে খাদিজার প্রসব বেদনা উঠলে তিনি তার মাকে জানান। পরবর্তীতে শাশুড়ি জীবিত না থাকায় পাশের ঘরের জা আক্তার বানু, স্থানীয় রুজি আক্তার ও ফাইজুন্নাহার নামের তিন মহিলাকে ডেকে আনা হয়।
খাদিজার জা আক্তার বানু জানান- “আমাকে খাদিজার প্রসব বেদনার খবর দেওয়া হলে আমি আমার ৯ বছর বয়সী মেয়ে তানিশাকে নিয়ে সেখানে যাই। ঘরে ঢুকতেই বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনতে পাই এবং দেখি একটি ছেলে বাচ্চা প্রসব হয়েছে। স্বামী প্রবাসে থাকায় এই দৃশ্য দেখে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি।
এরপর রাতেই তারা বাবার বাড়ি চলে যায়, কিন্তু এখন বাচ্চাটি কোথায় আছে তা আমাদের জানা নেই।”
আক্তার বানুর মেয়ে তানিশাও জানায়, সে নবজাতক শিশুটিকে হাতের আঙুল চুষতে দেখেছে।
রুজি আক্তার জানান: “গভীর রাতে আমাকে ডাকলে আমি তাদের ঘরে যাই।
খাদিজাকে ব্যথায় ছটফট করতে দেখে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে কিছু জানেনা বলে জানায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি জীবিত ফুটফুটে ছেলে সন্তান প্রসব হয়।”
ফাইজুন্নাহার বলেন:খবর পেয়ে রাতে এসে দেখি একটি ছেলে বাবু হয়েছে এবং বাচ্চাটি জীবিত। আমি নিজে কোলে তুলে তাকে নিয়েছি। প্রসবের সময় খাদিজার শ্বশুর আব্দুর রশিদও ঘরের বাইরে উপস্থিত ছিলেন।”
এই বিষয়ে জানতে নুরুল আমিন মেম্বার এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমি শুনেছি ঘটনা, কিন্তু সুস্পষ্ট কিছু এখনো বলতে পারতেছি না।
এ ব্যপারে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”





