অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ রক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:১৫ পিএম (ভিজিট : ০)

X
সংগৃহীত ছবি
গতকাল ২৪ জুলাই পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের দিঘলকান্দী বাঁধের ১৫টি গাছ কর্তনের ফলে বাঁধটি দুর্বল ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
বালু উত্তোলনের নেতিবাচক প্রভাব নদীর তলদেশ গভীর হওয়া,নদীর তীর বা বাঁধের কাছাকাছি এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে নদীর স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয় এবং তলদেশ গভীরে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়, উত্তোলনের ফলে পানির গতিবেগ ও স্রোত বেড়ে যায়, যা সরাসরি বাঁধের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয় স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়, পানির প্রবল তোড়ে দুর্বল হয়ে যাওয়া বাঁধের মাটি ধসে যায় এবং সামান্য পানির চাপে বাঁধ ভেঙে প্লাবন ঘটে ধস ও ফাটল ধরে।
ততকালীন সময়ে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ও হোসেনপুরের উপর দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর কোল ঘেষে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও তীর সংরক্ষণ বাঁধকে ক্ষতি করে দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করছেন একটি মহল। প্রভাবশালী হওয়ায় বালু উত্তোলনে কেউ তাঁকে বাধা দেয়নি তাদের।যা বর্তমানে ও চলমান। একইসাথে ইতিপুর্বে বিভিন্ন সময়ে বাঁধের উপর লাগানো গাছ গুলো সমিতির নাম ভাঙিয়ে কর্তন করেছে গাছ খেকো চক্র । যা বর্তমানে ও চলমান।
এই বাঁধের কারণে গত বন্যায় মানুষ তেমন একটা ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও বর্তমান সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভেঙে যায় এবং ফাটল ধরে কোথাও আবার ধ্বসে পড়ছে। যার ফলে দুই ইউনিয়নের শতাধিক পরিবারের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মুখে শোনা যায় ধ্বসে যাওয়া কিংবা ভেঙ্গে পড়া জায়গা গুলো থেকে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু উত্তলন করা হয়েছে। একইভাবে বাঁধের উপর লাগানো গাছগুলো কর্তন করা হয়েছে। যার মাশুল বর্তমানে নদীর তীরবর্তী বসবাসরত মানুষগুলোকে দিতে হচ্ছে।