রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

ই-পাসপোর্টে আধুনিক সেবার প্রত্যাশা, বাস্তবে নানা অভিযোগ; আলোচনায় ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাস

Link Copied!

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে চালু হয়েছে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম। আধুনিক ও নিরাপদ এই সেবা চালুর উদ্যোগকে প্রবাসীদের বড় একটি অংশ স্বাগত জানালেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট, দীর্ঘ অপেক্ষা, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সেবার পরিধি বাড়াতে সম্প্রতি বেশ কিছু বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস।

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট কেবল ভ্রমণের নথি নয়; বৈধভাবে বসবাস, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, আবাসনসংক্রান্ত কাজ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়া অনেক প্রবাসীর জন্য জরুরি।

এই বাস্তবতায় ই-পাসপোর্ট চালুর পর দ্রুত ও সহজ সেবা পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হলেও অনেক আবেদনকারী বলছেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ দিনের পর দিন অনলাইন স্লট খুঁজেও কাঙ্ক্ষিত তারিখ পাচ্ছেন না। আবার কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত অপেক্ষার অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

প্যারিসের বাইরের প্রবাসীদের ভোগান্তি বেশি

ভোগান্তির মাত্রা আরও বেশি প্যারিসের বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে। লিয়োঁ, মার্সেই, তুলুজ, বোর্দো, নিস কিংবা স্ট্রাসবুর্গসহ দূরবর্তী শহর থেকে অনেককে কয়েকশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্যারিসে আসতে হয়। যাতায়াত ব্যয়ের পাশাপাশি কর্মদিবস নষ্ট হওয়ায় তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

কয়েকজন আবেদনকারীর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সামান্য ঘাটতি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। দ্রুত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া গেলে এ ধরনের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্রবাসী বাংলাদেশি গ্রুপেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ দূতাবাসের উদ্যোগ ও সেবার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ জানাচ্ছেন। বিশেষ করে ফোন বা ই-মেইলে দ্রুত সাড়া না পাওয়া এবং আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পেতে সমস্যার অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ।

‘ই-পাসপোর্ট অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া’

এ বিষয়ে দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল নয়াদিগন্তকে বলেন, ‘ই-পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া। প্রতিটি আবেদনকারীর ছবি, আঙুলের ছাপ, স্বাক্ষরসহ অন্যান্য তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়। এরপর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের পরই পাসপোর্ট মুদ্রণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।’

তিনি বলেন, ‘আবেদনকারীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে সেবা প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হওয়া অস্বাভাবিক নয়।’

তার ভাষ্য, শুরুর দিকের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং সেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কমিউনিটির সঙ্গে বৈঠকের পর বিশেষ উদ্যোগ

পাসপোর্ট সেবা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ, অভিযোগ ও মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে গত ১৬ জুলাই ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাস কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। ওই আলোচনার পর কয়েকটি বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমের ঘোষণা দেয় দূতাবাস।

দূতাবাসের ঘোষণা অনুযায়ী, ফ্রান্স সরকারের নির্ধারিত নিয়মে বৈধতার আবেদন বা ‘রেগুলারাইজেশন’-এর জন্য যেসব প্রবাসী ফরাসি প্রিফেকচার থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন, তাদের পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে শনিবার ২৫ জুলাই বিশেষ পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একইভাবে আগামী ৮ ও ২২ আগস্ট, শনিবার দূতাবাসে বিশেষ কনস্যুলার সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিনগুলোতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সারাদিন পাসপোর্টসংক্রান্ত সেবা দেওয়া হবে বলে দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া ১৬ জুলাই থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের নতুন স্লট উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের অর্ধেক অনলাইন আবেদনকারীদের জন্য এবং বাকি অর্ধেক ১৫ মে-এর আগে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা জানিয়েছে দূতাবাস।

বিশেষ সেবায় ৮৬ আবেদনকারী

ছুটির দিনে বিশেষ সেবা চালু হলেও শনিবার পাসপোর্টপ্রত্যাশীদের প্রত্যাশিত বড় ধরনের ভিড় দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ৮৬ জন আবেদনকারী পাসপোর্টসংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেন।

বিশেষ এই কার্যক্রমে দূতাবাসের অনুরোধে কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নাগরিক সেবা সহজ করতে কমিউনিটির সদস্যদের এমন অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট চান আবেদনকারীরা

পাসপোর্টসংক্রান্ত ভোগান্তির বিষয়ে সিলেটের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন নয়াদিগন্তকে বলেন, ‘তিন মাস আগে আবেদন করেছি। গতকাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলে আমাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’

প্যারিসপ্রবাসী ঢাকার খান খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রদানের ক্ষেত্রে আগের নিয়মে ফিরে যাওয়া উচিত। ওই পদ্ধতিতে দ্রুত সময়ে এবং প্রয়োজনে বিশেষ বিবেচনায়ও অনেকেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কিংবা অসাধু উপায় অবলম্বনের কোনো সুযোগ থাকত না।’

অন্যদিকে চট্টগ্রামের আরাফাত রহমান বলেন, ‘কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে দূতাবাসকে কেন্দ্র করে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।’

তিনি জানান, নতুন নিয়মে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ইতোমধ্যে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন।

নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেখার আহ্বান

বিএনপি নেতা রেজাউল করিম রেজা বলেন, নতুন ব্যবস্থায় যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আগের নিয়মে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূতাবাস ও সরকারের বিরুদ্ধে অযাচিত নেতিবাচক প্রচারণা ও মন্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।

বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর বলেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দূতাবাসের নাগরিক সেবা আগের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে নাগরিক সেবার প্রশ্নে দূতাবাসকে আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপি নেতা অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে একটি মহল দূতাবাসের সেবা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতিবাচক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে।

তার দাবি, যারা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ই-পাসপোর্ট সেবা নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের একটি অংশ অতীতে দূতাবাসকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে ভিন্নমতাবলম্বীদের সুযোগ দেয়নি। এ ধরনের প্রচারণার বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রযুক্তির পাশাপাশি সেবা ব্যবস্থাপনাতেও নজর দেওয়ার দাবি

প্রবাসী কমিউনিটির অনেকের মতে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন যথেষ্ট নয়; সেবা ব্যবস্থাপনাতেও আরও সমন্বয় প্রয়োজন। নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট চালু, আবেদনকারীদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ, অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা এবং দূরবর্তী শহরগুলোতে মোবাইল কনস্যুলার সেবা বাড়ানো গেলে ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশেষ করে কর্মব্যস্ততার কারণে যারা বারবার প্যারিসে আসতে পারেন না, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার দাবি রয়েছে।

তবে অভিযোগের মধ্যেও ই-পাসপোর্ট চালুকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন অধিকাংশ প্রবাসী। আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ এই পাসপোর্ট আন্তর্জাতিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য এবং পরিচয় জালিয়াতির ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি সেবা চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধতা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে নাগরিকের আস্থা ধরে রাখতে দ্রুত সমস্যা সমাধান, স্বচ্ছতা, কার্যকর যোগাযোগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

ফ্রান্সে ই-পাসপোর্ট সেবা ঘিরে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দূতাবাসের নতুন বিশেষ সেবা উদ্যোগ এখন কতটা কার্যকরভাবে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে পারে, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। প্রবাসীদের প্রত্যাশা—দ্রুত, স্বচ্ছ, সহজ এবং হয়রানিমুক্ত কনস্যুলার সেবা।

শাহ রিয়ার রিজবি। ফ্রান্স প্রতিনিধি। ঢাকা ইনফো

শাহরিয়ার রিজবি একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক, যিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যম DhakaInfo24-এর সঙ্গে যুক্ত।Shahriar Rijvi is a Bangladeshi journalist working with DhakaInfo24.

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});