দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলার পর থেকেই মসজিদটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে পুরনো শহর ও মসজিদের প্রবেশপথগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাধারণ মুসল্লিদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি আশপাশের রাস্তায় নামাজ আদায়ের চেষ্টা করলেও বাধা দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জনসমাগম এড়াতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শুধু ওয়াকফ দপ্তরের সীমিতসংখ্যক কর্মী ছাড়া অন্য কেউ মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না। শুধু আল-আকসা নয়, একই সঙ্গে খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান ‘চার্চ অফ দ্য হলি সেপালকার’ বা কিয়ামা গির্জাও বন্ধ করে রেখেছে দখলদার প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরনো শহরের আশপাশে নামাজ পড়তে গেলে পুলিশ মুসল্লিদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে শহরের ছোট ছোট মসজিদে নামাজ আদায় করছেন, আবার কেউ কেউ সিলওয়ান শহরের রাস আল-আমুদ এলাকায় রাস্তার ওপর নামাজ আদায় করেছেন।
১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম এত দীর্ঘ সময় ধরে আল-আকসায় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি হলো। জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোয় রমজানের তারাবি ও ঈদের নামাজও সেখানে আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা।
এদিকে হামাস এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তার অজুহাতে আল-আকসাকে মুসল্লিশূন্য করে পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আসন্ন ধর্মীয় উৎসব ঘিরে ইহুদি কট্টরপন্থীদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
