শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

মাদারগঞ্জ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হলে কমবে লোডশেডিং


সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৯:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জামালপুরের মাদারগঞ্জে নির্মাণাধীন ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরপিসিএল সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ব্যবস্থাপনাগত সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ ভৌত নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটির মূল কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে কবে নাগাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যাবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের ১৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশোধিত আকারে ১ হাজার ৬১২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি পুনরায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমানভাবে মূল নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি ইউনিয়নের কাইজার চরে ৩২৫ দশমিক ৬৫ একর জমির ওপর ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ডলারের দাম বৃদ্ধি, পরপর কয়েকটি বন্যা, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিদেশি ঋণ ছাড়ের জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে এগোয়। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটির মূল কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রকল্পের বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এএফআরওয়াই সুইজারল্যান্ড লিমিটেডের (AFRY Switzerland Ltd) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হয়। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন পরামর্শক নিয়োগ না হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি আরও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেন। পরে চলতি বছরের ২৫ আগস্ট আটলান্টা এন্টারপ্রাইজ (ATLANTA Enterprise) নামের একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে নতুন পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

এ ছাড়া আরপিসিএলের ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের চিঠির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মূল ভারতীয় ইপিসি ঠিকাদার আমারারাজা ইল্কা প্রাইভেট লিমিটেডকে প্রকল্পের জন্য উপকরণ সরবরাহ বন্ধ রাখতে বলা হয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রাপ্য অর্থের বড় একটি অংশ পরিশোধ না হওয়ায় নির্মাণকাজ থেমে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় ইপিসি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দুটি বড় ব্যাচিং প্ল্যান্ট, জনবল, শ্রমিক, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন সম্পদ নিয়ে প্রকল্প এলাকায় অপেক্ষমাণ রয়েছে। কাজ বন্ধ থাকলেও এসব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল ধরে রাখতে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্পটিও। টাওয়ারের বিভিন্ন উপকরণ চুরি থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমদানি করা বিভিন্ন সামগ্রীও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে সেগুলো চুরি ও মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাজ বন্ধ হওয়ার আগেই প্রকল্পের বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়েছিল। চরাঞ্চলকে নদীভাঙন থেকে রক্ষা করতে আরসিসি ব্লক বসানো, মাটি ভরাট, সৌর প্যানেলের ফ্রেম তৈরি এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য টাঙ্গাইলের ঘাটাইল গ্রিড উপকেন্দ্র পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কিছু কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

প্রকল্পটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও পরিবেশগত দিকও রয়েছে। জমি অধিগ্রহণের পর নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৪১টি ভূমিহীন পরিবারকে পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ পুনর্বাসন কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

আরপিসিএল নিজস্ব অর্থায়নে দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুনর্বাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাজার, মসজিদ ও কবরস্থানের সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্পটিকে আংশিক ‘কৃষি-সৌর’ বা অ্যাগ্রিভোলটাইক প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সৌর প্যানেলের নিচে হলুদ, আদা ও কাঁচামরিচ চাষের পাশাপাশি বর্ষাকালে মাছ চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রকল্প এলাকায় এখনো ৮ থেকে ১০টি পরিবার বসবাস করছে। স্থানীয় বাসিন্দা আজিবর আকন্দের স্ত্রী সবুরা খাতুন বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারে দুই ছেলে, এক মেয়ে, শাশুড়ি ও এক ছেলের বউ – সব মিলিয়ে সাতজন। এখন আমরা চারটি ঘরে থাকি। কিন্তু পুনর্বাসনের জন্য সাতজনের বিপরীতে একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমরা কীভাবে সেখানে যাব?’

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় এই চরে কিছুই ছিল না। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে অবহেলিত চরের চেহারা বদলে গেছে। কিন্তু কাজ বন্ধ থাকায় আমাদের আশাও যেন আটকে আছে। অনুমোদন যেহেতু হয়ে গেছে, আমরা দ্রুত কাজ শুরু করার দাবি জানাই। বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে আমাদের অঞ্চলসহ পুরো দেশ উপকৃত হবে।’

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সিজার রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি ঘাটাইল বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে। ফলে জামালপুর, টাঙ্গাইল ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পিক আওয়ারে যে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকে, তা কাটিয়ে উঠতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি জীবাশ্ম জ্বালানি – কয়লা বা তেলের – ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি উৎপাদনে বাংলাদেশের একটি বড় পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ রোধ করা সম্ভব হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করবে।’

তবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কিছু পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, আইসোলেশন যথাযথ না হলে গ্রিডের পাওয়ার সিস্টেমে ডিসি কারেন্ট ঢুকে বিদ্যুতের গুণমান কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি ২৫ থেকে ৩০ বছর পর সৌর প্যানেলের কার্যক্ষমতা শেষ হলে সেগুলো বর্জ্যে পরিণত হবে। সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে এসব বর্জ্য পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে প্রকল্পটির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রকল্পের ক্ষুদ্র কাজগুলো চলমান রয়েছে। বাকি মূল কাজ খুব কম সময়ের মধ্যে শুরু হবে। এটি শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। মূল কাজ শুরু হলে সব সমস্যার সমাধান হবে এবং দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন করা হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০০ মেগাওয়াটের এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ার পাশাপাশি জামালপুর, টাঙ্গাইলসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই অনুমোদনের পর দ্রুত মাঠপর্যায়ে মূল নির্মাণকাজ শুরু করে প্রকল্পটি উৎপাদনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});