সেই যাত্রায় ব্র্যান্ডটির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন এমবাপ্পে। সুইস এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে টেনিস কিংবদন্তি রজার ফেদেরারও বিনিয়োগকারী ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত আছেন। মাত্র আট বছর বয়সে নাইকির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন এমবাপ্পে। এরপর ধীরে ধীরে ব্র্যান্ডটির অন্যতম পরিচিত বৈশ্বিক মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাশাপাশি নাইকির গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন এ ফরাসি তারকা।
বিশেষ করে নাইকির জনপ্রিয় ‘মারকিউরিয়াল’ বুটের প্রচারে এমবাপ্পের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। নতুন চুক্তির মাধ্যমে এবার এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলেন যার মূল ব্যবসার ভিত্তি অ্যাথলেটিকস ও দৌড়ের সরঞ্জাম। ২০১৯ সালের নভেম্বরে রজার ফেদেরারকে বিনিয়োগকারী ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার পর থেকেই টেনিসের পাশাপাশি অন্যান্য খেলাতেও নিজেদের কার্যক্রম বিস্তৃত করছে ‘অন হোল্ডিং’। ফুটবলেও বড় পরিসরে প্রবেশের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এমবাপ্পেকে যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন যাত্রা নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, শুরু থেকেই ‘অন’-এর প্রতি তার আগ্রহের মূল কারণ ছিল একসঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন কিছু তৈরি করার সুযোগ। তার লক্ষ্য, ভবিষ্যতের ফুটবলকে নতুনভাবে উপস্থাপনের এই উদ্যোগে নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগানো। ফরাসি তারকার ভাষায়, উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি ফুটবলের মূল আনন্দটিকেও ধরে রাখতে চান তিনি। ‘অন’-এর সঙ্গে তাদের একটি যৌথ স্বপ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এমবাপ্পে এবং জানান, এই যাত্রা মাত্র শুরু।
নাইকির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ‘অন’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এমবাপ্পের আগে উদাহরণ তৈরি করেছিলেন রজার ফেদেরারও। দীর্ঘদিন নাইকির সঙ্গে থাকার পর সুইস ব্র্যান্ডটির সঙ্গে যুক্ত হন এই টেনিস কিংবদন্তি। পরবর্তীতে তিনি প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডার হওয়ার পাশাপাশি নিজের নামে একটি ‘সিগনেচার’ পণ্য লাইনও চালু করেন।
এমবাপ্পের ক্যারিয়ারের শুরু থেকে নাইকি ছিল তার অন্যতম বাণিজ্যিক সঙ্গী। একাডেমি ফুটবল, মোনাকো ও পিএসজি হয়ে রিয়াল মাদ্রিদে তারকা হয়ে ওঠার পুরো পথেই ব্র্যান্ডটির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। প্রায় ২০ বছরের এই সম্পর্কের অবসান তাই এমবাপ্পের ব্যক্তিগত স্পনসরশিপ অধ্যায়ের বড় পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।