গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার একমাত্র আসামি মো. সোহরাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার দিবাগত রাতে ময়মনসিংহ সদর কোতোয়ালি থানার র্যালির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সোহরাব হোসেন (৩৬) নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার ভাসাটি গ্রামের মৃত আদম আলীর ছেলে। তিনি শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় পানের দোকান চালাতেন। অভিযোগের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান সোহরাব। সেখানে তার দুই শিশুসন্তানের সামনেই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কয়েক মাসের বাড়িভাড়া বকেয়া থাকায় ওই রাতে বাড়ির মালিক নারীটিকে দুই সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসড়কের নিচে বসে ছিলেন। এ সময় সোহরাব তার কাছে গিয়ে সমস্যার কথা জানতে চান।
পরে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে চৌরাস্তার পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুই শিশুসন্তানের সামনে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর ওই নারী স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে বিচার চান। তবে তার অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ না নিয়ে তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে চলে যেতে বলেন।
এ ঘটনায় হতাশ হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় চলন্ত বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
পরে ওই নারী বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় সোহরাব হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার একমাত্র আসামি সোহরাব হোসেনকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।